পাঁচ বন্ধু মিলে তৈরি করেছিল এক বিশালাকায় ঘুড়ি। বিশেষ এক ঘুড়ি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্যই চলছিল প্রস্তুতি। কিন্তু বাধ সাধলো দমকা হাওয়া। ঘুড়িটিকে ওড়ানোর সময় হঠাৎ করেই শুরু হয় দমকা ঝড়ো হাওয়া। যে হাওয়ায় ভর করে দ্রুত বেগে আকাশে উঠে যায় ওই বিশালাকায় ঘুড়ি। তখনও অনেকেই খেয়াল করেনি যে ওই ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে ঘুড়ির সঙ্গেই ঘুড়ির সুতো ধরে মাঝ আকাশে রীতিমত ঝুলছে এক ব্যক্তি।
যখন বিষয়টা সবার নজরে এলো ততক্ষণে ওই ব্যক্তি ভূমি থেকে প্রায় ৩০ ফুট উপরে মাঝ আকাশে ঝুলন্ত অবস্থায়। ওই ব্যক্তির মধ্যেও তখন ঢুকে পড়েছে চূড়ান্ত আতঙ্ক। তিনিও তখন বুঝতে পারছেন না ঠিক কী করবেন না করবেন! এই পরিস্থিতির মধ্যে ওই পাঁচ বন্ধু হঠাৎ করেই খেয়াল করে তারা চার জন সেখানে রয়েছে এবং পঞ্চম জন মিসিং। একইসঙ্গে তারা এটাও বুঝতে পারে মাঝ আকাশে ঘুড়ির সুতো ধরে ঝুলন্ত ওই ব্যক্তি অন্য কেউ নয়, তাদেরই বন্ধু।
সব বুঝতে পেরে নিচ থেকে বন্ধুরা একসঙ্গে চিৎকার করে পঞ্চম বন্ধুকে ওই মাঝ আকাশ থেকেই নিচে ঝাঁপ মারতে বলে। কিন্তু এত উপর থেকে ঝাঁপ মারার অর্থও নির্ঘাত প্রাণ বলিদান দেওয়া। তাই বন্ধুদের সেই ডাকে সাড়া দেওয়ার আগে যে কেউ দশ বার ভাববে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ওই মাঝ আকাশ থেকেই ঝাঁপ মারতে বাধ্য হয় ওই ব্যক্তি। আর বরাত জোরে বেঁচেও যায়।
এই ঘটনা সোমবার দেখা যায় শ্রীলঙ্কার জাফনার পেড্রো পয়েন্টে। প্রতি বছরের এই সময়টায় স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে এখানে হয় ঘুড়ি উৎসব, যার আনুষ্ঠানিক নাম “পোঙ্গল উৎসব”। এই উৎসবে যোগদানের আগে চলছিল নিজেদের তৈরি বিশেষ ঘুড়ি টিকে আকাশে ওড়ানোর মহড়া। আর সেই মহড়া চলাকালীন ঘটে যায় এই বিপত্তি।