বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আর কয়েক মাস বাকি। তার আগেই উত্তরবঙ্গের চা-শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে গোটা রাজ্য জুড়ে মাসব্যাপী ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূল। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার আলিপুরদুয়ার-এ জনসভা করেন অভিষেক। সেখান থেকেই চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সভা মঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, “আমি কথা দিচ্ছি, চতুর্থবার দিদির সরকার হলে আমার প্রথম দৃষ্টি থাকবে আলিপুরদুয়ারে। কমপক্ষে চা বাগানে ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরি করার চেষ্টা করব।” এই ইস্যুতে তিনি সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও আক্রমণ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে এসআইআর-সহ একাধিক ইস্যুতে সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে নিশানা করে তিনি বলেন, “চা বাগান অধিগ্রহণের কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিজ্ঞপ্তি দিয়েও পরে তা বাতিল করেন। আমরা মিথ্যে বলি না। কথা দিলে কথা রাখি। বিজেপির মতো মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয় না।”
এদিন স্থানীয় বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা-কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেকের কথায়, “মনোজ টিগ্গাকে কখনও আন্দোলন করতে দেখেছেন? একটা চিঠিও লিখেছিলেন? সংসদে প্রশ্ন তুলতে দেখেছেন? বিজেপি সাংসদ আর কালসাপ—দুটোই এক।”
সভা চলাকালীন সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথাও শোনেন অভিষেক। সেই সময় চা-শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি জানান, “২০১১ সালে আমাদের সরকার প্রথমবার ক্ষমতায় আসার সময় চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ছিল ৬৭ টাকা। অনেক লড়াই করে আজ তা ২৫০ টাকায় পৌঁছেছে। এর আগে যখন এসেছিলাম, তখন ছিল ২৩২ টাকা।”
তবে বর্তমান বাজারদরে ২৫০ টাকায় সংসার চালানো যে কঠিন, তা স্বীকার করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আলু, সবজি, পোশাক, জুতো থেকে শুরু করে বাড়ি তৈরির জিনিস—সবকিছুর দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আড়াইশো টাকায় সংসার চলে না। চতুর্থবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষমতায় এলে প্রথমেই আলিপুরদুয়ারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাগান মালিক, কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করা হবে।”
সেই বৈঠকেই চা বাগানে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন অভিষেক। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ঘোষণা উত্তরবঙ্গের চা-বাগান এলাকায় তৃণমূলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।