বিধানসভা ভোটের আগে প্রচারে নয়া ভঙ্গিমায় মাঠে নামছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তাঁর জেলা সফর। প্রথম কর্মসূচি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। আর এই জনসভা ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী মঞ্চ— যেন রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বড়সড় কোনও কনসার্টের প্রস্তুতি! বিশাল এলইডি স্ক্রিন, কনসার্ট-স্টাইলের আলো, আর মূল মঞ্চ থেকে সামনের দিকে প্লাস চিহ্নের র্যাম্প— এমন সাজে সভাস্থলে নতুন প্রচারধারার ইঙ্গিত।
র্যাম্পে হাঁটতে হাঁটতে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন অভিষেক— এমনটাই জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে। লোকসভা ভোটের আগে ব্রিগেডের মঞ্চে যেভাবে র্যাম্প-সংস্কৃতি শুরু করেছিলেন তিনি, সেই পথেই আরও এক ধাপ এগোচ্ছে দল। বারুইপুরের র্যাম্পে ‘আবার জিতবে বাংলা’ স্লোগানও উজ্জ্বলভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সভাস্থলের প্রস্তুতি দেখে বোঝাই যায় নজর কাড়তে চাইছে তৃণমূল। যদিও দলের অভিষেক-ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, বিষয়টি খরচের নয়, প্রচারের ধরন বদলানোই লক্ষ্য— কম খরচেও অভিনব উপায়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়, আর সেই ভাবনাতেই এগোতে চান অভিষেক।
শুক্রবার বারুইপুরে থাকার পর শনিবার কর্মসূচি জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে। তারপর বীরভূম, উত্তর দিনাজপুরসহ একাধিক জেলায় যাবে দলীয় কর্মসূচি। প্রতিটি জায়গাতেই অনুরূপ মঞ্চের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। উত্তর থেকে দক্ষিণে ‘নবজোয়ার যাত্রা’ শেষ হয়েছিল ২০২৩-এ, এবার সেই ধাঁচে না হলেও ধারাবাহিক জনসংযোগেই জোর দিচ্ছে তৃণমূল।
এর মধ্যেই চলছে এসআইআরের দ্বিতীয় দফার শুনানি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ। ঠিক সেই প্রেক্ষাপটেই তৃণমূল প্রকাশ করেছে এ বারের স্লোগান— “যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা”
ব্রিগেডে ‘খেলা হবে’র পর এবার সেই সুরেই এগোচ্ছে দল।
বারুইপুরের সভায় দুই লক্ষেরও বেশি উপস্থিতি টার্গেট রেখেছে তৃণমূল। শুধু বক্তৃতা নয়, থাকবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন ও লাইভ প্রচারের আয়োজন। রাজনৈতিক সমাবেশের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজি— দুই মিলিয়েই তৈরি হচ্ছে নতুন প্রচারমডেল।