দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর কার্যত বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি, বৈঠকের শুরুতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আঙুল উঁচিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। সঙ্গে সঙ্গেই আপত্তি জানান অভিষেক। তাঁর কথায়, “আঙুল নামিয়ে কথা বলুন। মনে রাখবেন, আপনি মনোনীত, আমি নির্বাচিত।”
বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন, বিজেপির সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের যোগসাজশ স্পষ্ট। তাঁর দাবি, “কো-অপারেটিভ মন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সচিব ছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। এটা কাকতালীয় নয়। ওকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে প্রতিষ্ঠান, সংবিধান ও দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো নষ্ট করার জন্য।” অভিষেকের কথায়, তিনি মানুষের ক্ষমতার সামনে মাথা নত করেন, ক্ষমতার আসনে বসা ব্যক্তির সামনে নয়। তাই বৈঠকে উপস্থিত থাকা বাকি দুই কমিশনার নীরব ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
“সারবত্তাহীন বৈঠক, কোনও প্রশ্নের জবাব নেই” অভিযোগ তৃণমূলের
অভিষেকের দাবি, দীর্ঘ আলোচনার পরেও জবাবহীন রয়ে গেল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাঁর কথায়, “১০-১২টা প্রশ্ন করেছি। ২-৩টা ছাড়া কোনও জবাব নেই। ১.৩৬ কোটি লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি কেন? তালিকা প্রকাশ হয়নি কেন? বলছে প্রযুক্তিগত সমস্যা।”
এছাড়াও এসআইআর শুনানিতে বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা, পোস্টাল ব্যালট হলে শুনানি না হওয়া, বাদ পড়া ৫৮ লক্ষ নামের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা আছে— এসব প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে পারেনি কমিশন বলে দাবি তৃণমূল নেতার।
এসআইআর শুনানিকেন্দ্রে BLA-২ এজেন্টদের প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, “সব দলের পর্যবেক্ষক ঢুকুক। আপনারা কেন আটকাচ্ছেন? এ নিয়ে লিখিত নির্দেশ জারি করুন।” মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং দাবি করেন, কমিশনের পক্ষ থেকে যথাযথ জবাব মেলেনি।
বৈঠকের প্রতিটি মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়ে অভিষেক বলেন, “কেউ কিছু লুকোচ্ছে না হলে ফুটেজ প্রকাশ করুন। সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”