হাতে আর মাত্র কয়েকটা মাস। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। সেই লক্ষ্যেই ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’ স্লোগানকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে প্রচার অভিযানে নেমেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর থেকে দক্ষিণ—একটির পর একটি জেলায় ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। সেই কর্মসূচিতেই বুধবার উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার-এ পৌঁছন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
এদিন ইটাহারে প্রচারের জন্য কোনও নির্দিষ্ট রোড শো-গাড়ি ব্যবহার না করে নিজের গাড়ির ছাদে উঠে জনসংযোগ করতে দেখা যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কখনও রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উদ্দেশে হাত নাড়িয়ে অভিবাদন, কখনও আবার গোলাপের পাপড়ি ছুড়ে জনতার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি। সেই সঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চতুর্থবার তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার গড়ার ডাক দেন।
রোড শো শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একযোগে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে আক্রমণ শানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলা থেকে অসুরদের তাড়াতে হলে একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে।” জনতার উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “এটা তো শুধুই ট্রেলার। সামনে ওদের পুরো সিনেমা দেখাতে হবে।”
ইটাহার থেকেই আসন্ন নির্বাচনের লক্ষ্যও স্পষ্ট করে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “উত্তর দিনাজপুরে ৯টা আর দক্ষিণ দিনাজপুরে ৬টা আসন—মোট ১৫-০ করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহার থেকেই তৃণমূল সবচেয়ে বেশি লিড পাবে।
উল্লেখ্য, এদিন প্রচার শুরুর আগে বালুরঘাট-এ গিয়ে মহারাষ্ট্রের জেল থেকে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের মুখে জেলবন্দি অবস্থার দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। বিজেপিকে তোপ দেগে বলেন, “কারও চোখের জল বিফলে যাবে না।”
এদিন আরও একবার রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতার বার্তা দেন তৃণমূল নেতা। তিনি বলেন, “পার্টি, পলিটিক্স পরে হবে। আমাদের একটা দায়িত্ব আছে। রাজনীতি করতে গিয়ে ১০ কোটি মানুষকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। মানুষের চোখের জল একদিন না একদিন অভিশাপ হয়েই ফিরবে।”
সব মিলিয়ে, উত্তর দিনাজপুর থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর—এদিনের কর্মসূচির মধ্য দিয়েই ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল তৃণমূলের প্রচার অভিযান।