সোনারপুরে হামলার ঘটনার পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতার মিন্টো পার্কের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার রাতে হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে এই তথ্য জানান তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি করেন, অভিষেক বর্তমানে হাসপাতালের আইটিইউ-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা চলছে।
কুণাল ঘোষের অভিযোগ, অভিষেকের চিকিৎসা ঘিরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “অভিষেককে আইটিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁকে দেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। কিন্তু হাসপাতালের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যাতে তাঁকে ভর্তি না রাখা হয়।”
এর আগে কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি হাসপাতালে অভিষেককে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই হাসপাতালেও সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের তরফে। কুণাল বলেন, “সেখানে আমাদের অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্পষ্টতই চাপে ছিলেন। শোনা যাচ্ছিল, চিকিৎসা শুরু করার আগে অনুমতি নিতে হবে। একজন আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য আবার কার অনুমতি প্রয়োজন, সেটাই প্রশ্ন।”
তাঁর আরও অভিযোগ, মিন্টো পার্কের হাসপাতালেও একই ধরনের চাপ তৈরি করা হচ্ছে। কুণালের দাবি, “পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ মহল থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হচ্ছে, অভিষেককে ভর্তি রাখা যাবে না। দ্রুত ছেড়ে দিতে হবে। অথচ চিকিৎসকেরা প্রয়োজন মনে করেই তাঁকে আইটিইউ-তে ভর্তি করেছেন।”
হাসপাতালের বাইরে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও। তিনি জানান, অভিষেকের মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত রয়েছে। শোভনের কথায়, “ওঁর মাথায় কিছুটা চোট লেগেছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায়ও আঘাত রয়েছে। ও নিজে গা বমি ভাবের কথাও বলেছে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরই আঘাতের প্রকৃত মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারবেন।”
শনিবার সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার সময় বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, একদল বিক্ষোভকারী তাঁর উপর হামলা চালায়। ঘটনায় তাঁর জামা ছিঁড়ে যায়, চশমা ভেঙে যায় এবং তিনি শারীরিকভাবে আহত হন। এরপর তাঁকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে বাইপাসের ধারের একটি হাসপাতালে এবং পরে মিন্টো পার্কের হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। হামলার ঘটনার পাশাপাশি এখন অভিষেকের চিকিৎসা এবং হাসপাতালের উপর চাপের অভিযোগ নিয়েও নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।