বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার সরকার গঠনের শেষ পর্বে নেমেছে বিজেপি। আর সেই পর্বেই দেখা যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। সাধারণত কোনও রাজ্যে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরাসরি উপস্থিত থাকেন না কেন্দ্রীয় নেতা অমিত শাহ। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে সেই রীতি ভেঙেই তিনি নিজে কলকাতায় আসছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার রাত অথবা বুধবার সকালে তিনি রাজ্যে পৌঁছতে পারেন। তাঁর উপস্থিতিতেই জয়ী বিধায়ক ও রাজ্য নেতৃত্বকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। সেই বৈঠকেই ঠিক হবে পরিষদীয় দলনেতা, যিনি পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। সূত্রের খবর, এই সফরে শাহর সঙ্গে থাকতে পারেন মোহনচরণ মাঝি, যিনি সহ-পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন।
আগামী ৯ মে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। ওইদিন রাজ্যে আসার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করতে চায় বিজেপি। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, এই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে জয়ের নজির গড়েছেন। যদিও আরও কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের পিছনে অমিত শাহর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজ্যে প্রচার চালিয়েছেন, প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে জনসভা করেছেন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে একাধিক বৈঠক করেছেন। ভোটের শেষ দফার আগেও টানা কয়েকদিন রাজ্যে অবস্থান করেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে, বাংলায় বিজেপি সরকারের পথ এখন প্রায় পরিষ্কার। তবে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর আসনে কে বসবেন, সেই সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি। শাহর সফর সেই সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত রূপ দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।