পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আবহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া বক্তব্যের জেরে থানায় এফআইআর দায়ের করতে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে এক অভিযোগকারীকে।
অভিযোগকারী মানস সেন চৌধুরীর দাবি, তিনি টানা দু’দিন বিধাননগরের সাইবার ক্রাইম দফতরে গিয়ে অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে অনীহা দেখায়। তাঁর কথায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নাকি প্রশ্ন তোলেন, এতদিন পরে কেন অভিযোগ জানাতে আসা হল।
মানসবাবুর বক্তব্য, সম্প্রতি অমিত শাহের একটি জনসভার বক্তব্য নজরে আসে তাঁর। এরপর তিনি মনে করেন, বিষয়টি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসনের পক্ষে উদ্বেগজনক হতে পারে। সেই কারণেই একজন নাগরিক হিসেবে অভিযোগ দায়েরের উদ্যোগ নেন তিনি।
অভিযোগকারীর দাবি, জনসভায় অমিত শাহ রাজ্যের সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে ‘মোল্লা, মাদ্রাসা ও মাফিয়া’ প্রসঙ্গ টানেন এবং বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারির সুরও শোনা যায়। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং তা আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে মানস সেন চৌধুরী প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ায় কি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নেওয়া হবে না? তাঁর দাবি, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত এবং সাংবিধানিক কাঠামোয় কোনও ব্যক্তি পদমর্যাদার ঊর্ধ্বে হতে পারেন না।
এই প্রসঙ্গে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন। ভোট প্রচারের সময় অভিষেকের বক্তব্যকে ঘিরে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল এবং সেই মামলায় আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়। তবে পরবর্তীতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালত জানিয়ে দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত সেই অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বহাল থাকবে।