কলকাতা: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে মোমো কারখানা ও গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ নিল পুলিশ। ঘটনার পাঁচ দিন পর নরেন্দ্রপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট মোমো সংস্থার দুই উচ্চপদস্থ আধিকারিককে। ধৃতদের নাম মনোরঞ্জন শিট (ম্যানেজার) এবং রাজা চক্রবর্তী (ডেপুটি ম্যানেজার)। বৃহস্পতিবার রাতে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁদের পাকড়াও করে।
তদন্তে উঠে আসছে শিউরে ওঠার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের রাতে কারখানার মূল দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আগুন লাগার পর ভিতরে থাকা কর্মীরা বাইরে বেরোনোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও সেই সুযোগ পাননি। কার্যত জীবন্ত দগ্ধ হতে হয়েছে তাঁদের। এমনকি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগে অনেক শ্রমিক ফোন করে পরিবারের সদস্যদের শেষবারের মতো সব জানিয়েছিলেন। কেন রাতের শিফটে কর্মীদের ভিতরে রেখে বাইরে থেকে তালা মারা হয়েছিল, সেই ‘অমানবিক’ আচরণের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
ইতিমধ্যেই নাজিরাবাদের ঘটনাস্থলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে, যা ৩০ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ধ্বংসস্তূপ সরাতেই বেরিয়ে আসছে একের পর এক হাড়হিম করা দেহাংশ। শুক্রবার নতুন করে আরও চারটি দেহাংশ উদ্ধার হওয়ায় মোট উদ্ধার হওয়া দেহাংশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫-এ। তবে এই হাড়গুলি কতজনের, তা নিশ্চিত করতে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা শুরু করেছে প্রশাসন।
এর আগে এই ঘটনায় ডেকরেটর সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁকে জেরা করেই দুই আধিকারিকের হদিশ পায় পুলিশ। ধৃতদের আজ বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। কারখানার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কর্মীদের সুরক্ষায় গাফিলতি— সব দিক খতিয়ে দেখতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।