নয়াদিল্লি: বৃহস্পতিবার লোকসভায় এথিক্স কমিটির সামনে হাজির হবেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। অন্য দিকে, ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। এমনই সব ঘটনাকে ঘিরে সরগরম দিল্লি।
টাকার বদলে সংসদে প্রশ্ন বিতর্কে প্রথমে ৩১ অক্টোবর মহুয়া মৈত্রকে তলব করেছিল লোকসভার এথিক্স কমিটি । কিন্তু নিজের সংসদীয় এলাকায় ব্যস্ত থাকায় সেদিন হাজিরা দেননি তৃণমূল সাংসদ। তিনি চিঠি দিয়ে এথিক্স কমিটির কাছে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে নেন। এরই মধ্যে মহুয়া চ্যালেঞ্জের সুরে জানিয়ে দেন, ২ নভেম্বর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তিনি এথিক্স কমিটিতে হাজিরা দেবেন। এবং সব অভিযোগ খণ্ডন করবেন।
তৃণমূল সাংসদের চ্যালেঞ্জ, “একটা পয়সা নিয়েছি প্রমাণ করতে পারবে না। ওরা যে কোনও মূল্যে মুখ বন্ধ করতে চায়। তাই যা তা একটা অভিযোগ দিয়ে দিয়েছে। কোনও প্রমাণ আছে? এক পয়সা নিয়েছি প্রমাণ থাকলে এথিক্স কমিটিতে ডাকত না। এফআইআর করে সোজা জেলে ঢুকিয়ে দিত। কিছু প্রমাণ করতে পারবে।” তাঁর সাফ কথা, ”ওরা আমার একটা চুলও স্পর্শ করতে পারবে না। আমি এথিক্স কমিটিতে যাব। আর সব অভিযোগ খণ্ডন করব।”
আবগারি দুর্নীতি মামলায় খোদ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টি (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে ইডি। বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) তাঁকে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যেই এ বার আশঙ্কা, হাজিরার দিনই গ্রেফতার করা হতে পারে কেজরিকে।
এই আশঙ্কা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজধানীতে। দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া এবং আপ সাংসদ সঞ্জয় সিংহকে আগেই গ্রেফতার করেছে ইডি। এ বার তলব করা হয়েছে কেজরিকে। এমনকী ওই মামলায় আদালতে জমা দেওয়া দ্বিতীয় চার্জশিটে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করেছিল ইডি। যে কারণে, কেন্দ্রীয় সংস্থাটি সমন পাঠানোর পরে কেজরিওয়ালের ‘ভবিষ্যৎ’ নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। এমন পরিস্থিতিতে, কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করলে দিল্লি সরকার এবং আম আদমি পার্টি জেল থেকেই চালানো হবে। বুধবার এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ।