রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। তারই মাঝে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অভিনব লড়াই। এবার এই কেন্দ্রে মুখোমুখি হতে চলেছেন একই পরিবারের দুই সদস্য—একদিকে বিজেপির প্রার্থী সোমা ঠাকুর, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর। সম্পর্কের দিক থেকে তাঁরা ননদ-বউদি।
মঙ্গলবার সকালে ১৩টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সেই তালিকায় বাগদা কেন্দ্র থেকে সোমা ঠাকুরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর-এর স্ত্রী।
অন্যদিকে, এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর, যিনি মমতা ঠাকুর-এর কন্যা এবং শান্তনু ঠাকুরের জ্যাঠতুতো বোন। ফলে একই ‘ঠাকুরবাড়ি’র দুই সদস্য এবার সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে।
বাগদার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রকে মতুয়া গড় হিসেবেই ধরা হয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস জয়লাভ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন।
এরপর উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে মধুপর্ণা ঠাকুর বড় ব্যবধানে জয় পান। সেই সাফল্যের ভিত্তিতেই এবারও তাঁর উপর ভরসা রেখেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই তিনি প্রচারে নেমে পড়েছেন।
প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ
এদিকে সোমা ঠাকুরের প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিজেপির অন্দরে শুরু হয়েছে অসন্তোষ। দলের একাংশের দাবি ছিল, স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করা হোক। গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেই দাবি জোরালো হচ্ছিল।
কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেই দাবি মানেনি বলে অভিযোগ। ফলে দলের একাংশের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের হুঁশিয়ারি, “স্থানীয় প্রার্থী চেয়েছিলাম, তা শোনা হয়নি—ভোটেই জবাব দেব।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রচারে নামার পর থেকেই সোমা ঠাকুরকে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মুখে পড়তে হতে পারে।
নজরে বাগদা কেন্দ্র পরিবারের দুই সদস্যের এই সরাসরি লড়াই ইতিমধ্যেই বাগদা কেন্দ্রকে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক, পারিবারিক সম্পর্ক এবং দলীয় অসন্তোষ—সব মিলিয়ে এই কেন্দ্রের ফলাফল এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।