বর্ধমান: ভোটার তালিকায় নাম সংশোধনের বিশেষ নিবিড় প্রক্রিয়ায় (SIR) লাগাতার হয়রানির অভিযোগ। আর তার জেরে শনিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বর্ধমান স্টেশন চত্বর। প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে রেললাইনে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই অবরোধের জেরে প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল। চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হন নিত্যযাত্রীরা।
জাতীয় পতাকা হাতে রেললাইনে বিক্ষোভ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা দলবেঁধে বর্ধমান স্টেশনে প্রবেশ করেন। তাঁদের প্রত্যেকের হাতেই ছিল জাতীয় পতাকা। স্লোগান দিতে দিতে তাঁরা সোজা রেললাইনে নেমে পড়েন এবং লাইনের ওপর শুয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এর ফলে স্টেশনে ঢুকতে ও বেরোতে বাধা পায় একাধিক লোকাল ট্রেন। দাঁড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন লাইনের ট্রেন।
কী অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের? বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন বা যাচাইয়ের নামে তাঁদের অকারণে বারবার ডেকে পাঠানো হচ্ছে। এক বিক্ষোভকারীর কথায়, “আমরা এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা। অথচ বাংলাদেশি ধরার নামে আমাদের ক্রমাগত হেনস্তা করা হচ্ছে। বারবার একই নথিপত্র নিয়ে ডাকা হচ্ছে। আমরা এই অপমান আর মেনে নেব না।”
যাত্রী ভোগান্তি ও পুলিশি হস্তক্ষেপ অবরোধের জেরে সপ্তাহের শেষ দিনে চরম বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় স্টেশনে ভিড় বাড়তে থাকে। এক যাত্রী জানান, “ভোটার তালিকায় হেনস্তার অভিযোগ সত্যি হতে পারে, কিন্তু তার জন্য রেল অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলার কোনও মানে হয় না।” পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আরপিএফ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে রেল সূত্রে খবর।
রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের আগুন উল্লেখ্য, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ও শুনানি কেন্দ্রে ভোটারদের হেনস্তার অভিযোগ শুধু বর্ধমানেই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উঠছে। ফরাক্কা, চাকুলিয়া-সহ একাধিক জায়গায় এর আগে বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও বিডিও অফিসে ভাঙচুর, আবার কোথাও অগ্নিসংযোগের মতো হিংসাত্মক ঘটনাও ঘটেছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো বর্ধমানের নাম।