পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল বসিরহাটে। বসিরহাট-২ ব্লকের বিবিপুর-বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় গোবরা এলাকায় একসঙ্গে ৩৪০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকী তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) সফিউল আলমও।
সোমবার প্রথম দফার অতিরিক্ত (সাপ্লিমেন্টারি) ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই বিষয়টি সামনে আসে। জানা যায়, এই ৩৪০ জন ভোটারের নাম আগে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় ছিল। তবে নতুন তালিকায় প্রত্যেকের নামই বাদ পড়েছে, যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দলের নেত্রী সায়নী ঘোষ অভিযোগ করেছেন, “বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে—এই ঘটনাই তার প্রমাণ।”
অন্যদিকে, বিএলও সফিউল আলম জানিয়েছেন, তিনি নিজে সমস্ত আবেদনকারীর নথি যাচাই করে আপলোড করেছিলেন। তাঁর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলেও সকলের নয়। ফলে একসঙ্গে ৩৪০ জনের নাম বাদ যাওয়াকে তিনি অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন। বিষয়টি ইআরও ও এইআরও-দের জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর।
কমিশনের তরফে অবশ্য এই ঘটনায় আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, সঠিক নথি থাকলে কারও নাম চূড়ান্তভাবে বাদ যাবে না। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা দায়িত্বে রয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক তরজা বাড়াল। এখন দেখার, সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নাম ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় কিনা এবং কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়।