দক্ষিণ কলকাতার বেহালায় এক নাবালিকাকে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও ঘটনাটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এলেও, অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটেছিল কয়েক সপ্তাহ আগে। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সরশুনা থানায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরজি করের ঘটনার পর দোষীদের শাস্তি চেয়ে ‘রাতদখল’ প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছিল। সেই ভাবে ফের বেহালার ঘটনার জন্য রাতদখলের দাবি উঠতে শুরু করছে সমাজমাধ্যমে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার পরিবারের তরফে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, এক পরিচিত ব্যক্তিকে গাড়িতে দেখতে পেয়ে নাবালিকা ওই গাড়িতে ওঠে। অভিযোগ, যাত্রাপথে তাকে চকলেট জাতীয় একটি খাবার দেওয়া হয়। সেটি খাওয়ার পর সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে জ্ঞান ফিরলে বুঝতে পারে, তার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছিল এবং সেই ভিডিও দেখিয়ে পরবর্তীতে নাবালিকাকে ব্ল্যাকমেল করা হত। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত গাড়ি এবং সম্ভাব্য ঘটনাস্থল চিহ্নিত করার চেষ্টাও করা হচ্ছে। নাবালিকার জবানবন্দি ইতিমধ্যেই রেকর্ড করা হয়েছে এবং মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকে নাবালিকা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সেই কারণেই অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা সময় লেগেছে বলে পরিবারের দাবি। তদন্তকারীরা বিশেষ করে সেই পরিচিত ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন, যাকে দেখে নাবালিকা গাড়িতে উঠেছিল বলে অভিযোগ।
শিশু ও নারী সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই ঘটনা ফের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সচেতনতার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।