পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দিনক্ষণ ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। এ বার রাজ্যে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। সব দফার ভোটগণনা হবে ৪ মে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ৬ মে-র মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।
দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই সূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কমিশন পরিস্থিতি বিচার করে এ বার দফা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় ভোট হয়েছিল। সে তুলনায় এ বার মাত্র দুই দফায় ভোট হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটের জন্য গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ৩০ মার্চ এবং দ্বিতীয় দফার জন্য ২ এপ্রিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন যথাক্রমে ৬ এপ্রিল এবং ৯ এপ্রিল। মনোনয়ন যাচাই হবে ৭ এপ্রিল ও ১০ এপ্রিল। প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ এপ্রিল ও ১৩ এপ্রিল।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আরও কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনের সূচিও ঘোষণা করেছে কমিশন। কেরল ও অসমে এক দফাতেই ভোট হবে ৯ এপ্রিল। তামিলনাড়ুতে ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে ভোট হবে ৯ এপ্রিল। এই সব রাজ্যের ভোটগণনাও হবে ৪ মে।
এ ছাড়াও গুজরাত, গোয়া, ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের একটি করে আসনে এবং কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রের দু’টি করে আসনে উপনির্বাচনের ঘোষণা করা হয়েছে। গোয়া, কর্নাটক, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরায় উপনির্বাচন হবে ৯ এপ্রিল। গুজরাত ও মহারাষ্ট্রে উপনির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল। সব আসনের ফল প্রকাশ হবে ৪ মে।
ভোট ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, এখন থেকে কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারকে এই বিধি মেনে চলতে হবে।
ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করছেন। অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলে সেই নামগুলি বর্তমান তালিকার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ৩ কোটি ২৮ লক্ষ এবং মহিলা ভোটার প্রায় ৩ কোটি ১৬ লক্ষ। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১,১৫২ জন। নতুন ভোটার, অর্থাৎ ১৮-১৯ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ ২৩ হাজার। ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সি ভোটার প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ।
পাঁচ রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে মোট প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটকর্মী এবং সাড়ে আট লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি প্রায় ৪৯ হাজার মাইক্রো অবজার্ভার, ১,৪৪৪ জন অবজার্ভার এবং ২১ হাজার সেক্টর অফিসার মোতায়েন করা হবে।