কলকাতা: কৃষি কাজে অভাবনীয় সাফল্য এবং উদ্ভাবনী কৌশলের স্বীকৃতি পেলেন বাংলার ৫ অদম্য নারী। ‘স্টেট এগ্রিকালচারাল টেকনোলজিস্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’ (SATSA)-এর পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হলো বিশেষ ‘কৃষি অনন্যা’ সম্মান। মূলত গ্রামীণ নারী ক্ষমতায়ন এবং কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ।
কারা হলেন এই ‘কৃষি অনন্যা’?
পুরস্কার প্রাপকদের মধ্যে রয়েছেন বহরমপুরের মৌসুমী বিশ্বাস। তিনি নতুন জাতের ধান উদ্ভাবনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মায়ানমারে পান রপ্তানি করে নজর কেড়েছেন। অন্যদিকে, হরিণঘাটার তাপসী রায় জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তিনি প্রায় ৫০০টি পরিবারকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠী। তালিকায় রয়েছেন উত্তরবঙ্গের হোসনেয়ারা বিবি-ও, যিনি ‘সংরক্ষণ কৃষি’ বা ‘কনজারভেশন এগ্রিকালচার’-এ বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন।
সম্মানের ধরন ও সামাজিক গুরুত্ব
সম্মানিত এই কৃষি অনন্যাদের হাতে শংসাপত্র, স্মারক এবং নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে। SATSA-এর এই উদ্যোগ কেবল কয়েক জন ব্যক্তিকে সম্মান জানানো নয়, বরং বাংলার কয়েক লক্ষ গ্রামীণ নারীকে কৃষিকাজে আরও উৎসাহ দেওয়া এবং সমাজে তাঁদের উপযুক্ত মর্যাদা নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় চাষবাসের কাজে মহিলাদের এই উদ্ভাবনী চিন্তা এবং রপ্তানি বাণিজ্যে অংশগ্রহণ আগামী দিনে বাংলার কৃষি অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে।