ভোটের আগে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াইয়ের জেরে এমনিতেই এই কেন্দ্র রাজ্যের রাজনৈতিক নজরের কেন্দ্রে। তার মধ্যেই রিটার্নিং অফিসার নিয়োগকে ঘিরে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস।
মঙ্গলবার ভবানীপুর কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নন্দীগ্রামের বিডিও সুরজিৎ রায়ের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলে শাসকদল। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তোপ দাগেন।
এরপর তৃণমূলের পক্ষ থেকে সরাসরি দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকেও। তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েনের দাবি, এই নিয়োগ ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
চিঠিতে তৃণমূল জানিয়েছে, ভবানীপুর একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর কেন্দ্র, যেখানে রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সুরজিৎ রায়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, তিনি পূর্বে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
এছাড়াও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে তৃণমূল বলেছে, এই পরিস্থিতিতে তাঁকে ওই দায়িত্বে রাখা হলে ভোট প্রক্রিয়ার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে।
তৃণমূলের দাবি, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে যুগ্মসচিব স্তরের আধিকারিকদের নিয়োগ করা হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে—
প্রথমত, সুরজিৎ রায়কে অবিলম্বে রিটার্নিং অফিসারের পদ থেকে সরাতে হবে।
দ্বিতীয়ত, তাঁর পরিবর্তে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে।
তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে এই ধরনের নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। ভোটের আগে এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এখন দেখার, এই বিতর্কের জেরে কমিশন কী পদক্ষেপ করে এবং তা ভবানীপুরের ভোটে কী প্রভাব ফেলে।