কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়া জেলার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বড়সড় পরিবর্তনের জোয়ার আসতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার যোগাযোগ সুদৃঢ় করতে বনগাঁ ও রানাঘাট সংলগ্ন চারটি অসমাপ্ত রেল প্রকল্পে নতুন করে সবুজ সংকেত দিল ভারতীয় রেল। এর ফলে কয়েকশো বর্গ কিলোমিটার এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষের দীর্ঘদিনের রেল পরিবহণের সমস্যা মিটবে।
রেল সূত্রের খবর, প্রধান যে চারটি প্রকল্প ফের চালু করা হচ্ছে সেগুলি হলো: বনগাঁ-পোড়ামহেশতলা (২০ কিমি), বনগাঁ-চাঁদাবাজার (১১.৫ কিমি), চাঁদাবাজার-বাগদা (১৩.৮ কিমি) এবং রানাঘাট (আড়ংঘাটা)-দত্তফুলিয়া (৮.১৭ কিমি)। এই প্রকল্পগুলির অধীনে একাধিক বড় ও ছোট সেতু নির্মাণের পাশাপাশি স্টেশন বিল্ডিং, নতুন প্ল্যাটফর্ম এবং ফুটওভার ব্রিজের মতো আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করা হবে।
বিশেষত বনগাঁ-পোড়ামহেশতলা লাইনটি বনগাঁ থেকে কল্যাণী অভিমুখে যোগাযোগ স্থাপন করবে। অন্যদিকে, চাঁদাবাজার-বাগদা ব্রডগেজ লাইনটি বনগাঁ-পেট্রাপোল সেকশন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্টেট হাইওয়ের সমান্তরালে এগিয়ে যাবে। এই নতুন লাইন চালু হলে প্রায় ২৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। রানাঘাট শাখার দত্তফুলিয়া সংযোগটি শিয়ালদহ থেকে ৭৩ কিমি দূরে অবস্থিত গেদে ও লালগোলা সেকশনের সাথে সরাসরি যুক্ত হবে।
তবে এই রেল উন্নয়নের নেপথ্যে রাজনৈতিক সমীকরণও দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। বিরোধীদের দাবি, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমন করতেই সীমান্ত এলাকায় এই রেল প্রকল্পগুলিকে ‘উপহার’ হিসেবে পাঠাল মোদি সরকার। যদিও রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি একান্তই সীমান্ত এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নের অংশ।