কলকাতা: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে মঙ্গলবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, বেলডাঙার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার যদি মনে করে, তবে তারা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)-কে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে। এনআইএ আইনের ৬(৫) ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা কেন্দ্রের রয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, বর্তমানে মুর্শিদাবাদে যে ৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েন রয়েছে, রাজ্য সরকারকে তা ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রের কাছে আরও বাহিনী চাইতে পারে রাজ্য, তাতে আইনি কোনও বাধা নেই।
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কড়া ভাষায় জানিয়েছে, বেলডাঙা এলাকায় যাতে কোনওমতেই সাধারণ মানুষের জীবন, মর্যাদা এবং সম্পত্তি বিপন্ন না হয়, তার সম্পূর্ণ দায়ভার মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার (SP) এবং জেলাশাসককে (DM) নিতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে হিংসা না ছড়ায়, তার জন্য গোয়েন্দা তথ্য (Intelligence inputs) সঠিকভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শও দিয়েছে আদালত।
রাজ্যের হলফনামা তলব রাজ্য প্রশাসনকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। ওই হলফনামায় জানাতে হবে— বর্তমানে কত বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং তাদের ঠিক কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। চার সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও সওয়াল-জবাব ঝাড়খণ্ড ও বিহারে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত শুক্র ও শনিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা। ভাঙচুর, রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক ব্যক্তি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন।
মঙ্গলবার শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী অভিযোগ করেন, এলাকাটি সংবেদনশীল হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ ১৬৩ ধারা জারি করতে দেরি করেছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। পাল্টা রাজ্যের তরফে জানানো হয়, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং ৩০ জনের বেশি গ্রেফতার হয়েছে। রাজ্যের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনাটিকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।