অমিত শাহের ডাকেই ফের রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হয়ে উঠলেন বঙ্গ বিজেপির দাবাং নেতা দিলীপ ঘোষ। বুধবার দিল্লিতে শাহের সঙ্গে বৈঠকের পরই শুরু হয়েছিল জল্পনা। আর বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠকে দাঁড়িয়ে সেই জল্পনাকেই বাস্তবে রূপ দিলেন তিনি। জানিয়ে দিলেন, ২০২৬-কে লক্ষ্য করেই ময়দানে নামছেন। তাঁর কথায়, “অমিত শাহ মাঠে নামতে বলেছিলেন, আমি নেমে পড়েছি। মাঠ জুড়ে খেলব।” দীর্ঘদিন পর দলীয় কার্যালয়ে এসে ফের পুরনো লড়াকু মেজাজেই দেখা গেল প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও প্রাক্তন সাংসদকে।
দলীয় মহলে বহুদিন ধরেই দিলীপ ঘোষের কোণঠাসা অবস্থান, সক্রিয়তা কমে যাওয়া ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে জল্পনা চলছিল। তবে বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক বৈঠক সেই সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। বৈঠকের আগে দিলীপ দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে। পরে সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়ে দেন, দলে যখন যেমন প্রয়োজন হবে তিনি লড়াইয়ে আছেন। তাঁর কথায়, “আমি ৬ বছর রাজ্য সভাপতি ছিলাম। অন্য দায়িত্বও পালন করেছি। দল যদি চায়, আমি লড়ব। মানুষের পাশে থাকব।”
এদিন নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও কটাক্ষ করেন দিলীপ। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে কালো পতাকা দেখানোর ঘটনা ঘিরে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “দলের কর্মীরা আমাকে কোনও দিন কালো পতাকা দেখায়নি। নতুন যারা এসেছেন, ওদের কালচার এগুলো। টিএমসি থেকে কিছু লোক এসেছে, ওরা করেছে। ঠিক করেছে না ভুল করেছে— সেটা ওদের ব্যাপার। ওরা থাকবে না ফুরিয়ে যাবে, তাও জানি না।” তাঁর এই মন্তব্যে সরাসরি নাম না করলেও শুভেন্দুর দিকেই আঙুল তুলেছেন বলে মনে করছে দলীয় মহলের একাংশ।
বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হবেন কি না, প্রশ্নে দিলীপ জানান, সিদ্ধান্ত পুরোপুরি দলের। তাঁর বক্তব্য, দল চাইলে তিনি প্রস্তুত। আর ২০২৬-এ বিজেপি কি আবার হারানো জমি ফিরে পাবে? সে প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাস। বললেন, “কত দিন লড়াইয়ের পর ক্ষমতায় এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? লড়তে হবে। কেউ আসবে, কেউ যাবে। কিন্তু আন্দোলন থেকে সরলে চলবে না।”