ডুয়ার্স, বাংলার বুকে একটুকরো শান্তির ঠিকানা। বুনো গন্ধ, নাম না জানা পাখির ডাক, টলটলে জলের শব্দ—শীতের মরশুমেই এখানে জমে ওঠে পর্যটনের মৌসুম। সাধারণত এই সময়টায় মূর্তি, লাটাগুড়ি, গরুমারা, টোটোপাড়া সহ আশপাশের এলাকা পর্যটকে ভরে ওঠে। জঙ্গল সাফারি, নদীর ধারে সময় কাটানো, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য—সবই মিলে ডুয়ার্সের টান অপরিসীম।
কিন্তু এ বছর ছবিটা একেবারে উল্টে গেছে। শীত জমে গেলেও পর্যটক নেই। হঠাৎ ভিড় কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা চেপে ধরেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। কয়েকদিন আগে ভয়াবহ বন্যার জেরে বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে পর্যটন শিল্পেও।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিন ঘোষ জানান, “মরশুম শুরু হয়ে গেলেও ভিড় এখনও আসছে না। উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে—পর্যটকরা হয়তো ভাবছেন আগের মতো সব কিছু ঠিকঠাক হয়নি। ব্যবসা খুবই খারাপ যাচ্ছে।”
মূর্তিতে হোম স্টে পরিচালনা করেন সোহম চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, “প্রতিবছর বড়দিন-নতুন বছরে ঘর ফাঁকা থাকে না। বুকিং সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। আর এবার বেশিরভাগ রুমই খালি পড়ে আছে। কেন পর্যটক আসছে না, সেটা বুঝে উঠতে পারছি না। ভবিষ্যতের আশায় রয়েছি।”
কোলকাতা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক দেবাশিস দে ও প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ডুয়ার্সের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনও মন ছুঁয়ে যায়। তবে পর্যটক সংখ্যা কম থাকায় বিষয়টি চোখে পড়ছে। দেবাশিসের মতে, বন্যার পর এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক থাকায় অনেকেই ভ্রমণে আসতে দ্বিধায় রয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহেও ডুয়ার্সে পর্যটনের সেই পুরনো ছন্দ নেই। স্থানীয়দের আশা, বছর শেষে এবং নতুন বছরের শুরুতে পর্যটকদের ভিড় ফিরলে আবার প্রাণ ফিরে পাবে এলাকার পর্যটন শিল্প।