নয়াদিল্লি: দিল্লির নির্বাচন সদনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এবার পালটা কড়া বিবৃতি জারি করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সোমবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘অপমান ও অসম্মান’ করার যে অভিযোগ তৃণমূল তুলেছে, কমিশনের বিবৃতিতে তার কোনো উল্লেখ তো নেই-ই, বরং উল্টে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে তৃণমূলকেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।
তৃণমূল নেত্রী বৈঠক বয়কট করার পর দাবি করেছিলেন যে তাঁর প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি এবং তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের তোলা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। কমিশনের সাফ বার্তা, আইনের শাসন বজায় রাখতে তারা আপসহীন। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে সংবিধান অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের প্রসঙ্গ টেনে কমিশন অভিযোগ করেছে যে, তৃণমূলের বিধায়কেরা কমিশনের বিরুদ্ধে অশালীন ও হুমকির ভাষা ব্যবহার করছেন। নাম না করে মনিরুলের বিডিও অফিসে ভাঙচুর এবং কুরুচিকর মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর (SIR) কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি বা হস্তক্ষেপে তারা কড়া পদক্ষেপ করবে।
পাশাপাশি, বিএলও (BLO)-দের সাম্মানিকের টাকা রাজ্য সরকার আটকে রেখেছে বলে পুরনো অভিযোগ ফের উসকে দিয়েছে কমিশন। এর আগে বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনকে ‘অহঙ্কারী’ এবং ‘বিজেপির ইশারায় চলা’ প্রতিষ্ঠান বলে তোপ দেগেছিলেন। সব মিলিয়ে, মমতার দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধের আবহ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।