পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সম্পূর্ণ ভোটগ্রহণ বাতিল করে নতুন করে ভোট নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ২৪ মে সেই ভোটের গণনা করা হবে। ফলে নির্ধারিত দিনে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনে গণনা চললেও ফলতার ফল প্রকাশ পিছিয়ে গেল।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোটে ফলতার একাধিক বুথে গুরুতর অনিয়ম এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে পশ্চিমবঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেনি বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
ভোটের আগে থেকেই ফলতা ছিল রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্র। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা এবং তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের মধ্যে টানাপোড়েনের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ভোটের দিন ইভিএমে কারচুপির অভিযোগও ওঠে এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়।
এরপর বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন এবং বিস্তারিত রিপোর্ট কমিশনে জমা দেন। সেই রিপোর্টে ফলতার একাধিক বুথে গুরুতর অনিয়মের উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ, কিছু বুথে সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, ফলে নিয়ন্ত্রণকক্ষে কোনও তথ্য পৌঁছায়নি। আবার কোথাও ইভিএমে টেপ লাগিয়ে প্রতীক ঢেকে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এমনকি দুপুরের আগেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পড়ে যাওয়ার ঘটনাও সামনে আসে।
এই সব তথ্য খতিয়ে দেখে কমিশন শেষপর্যন্ত গোটা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনের দাবি, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।