মকর সংক্রান্তিতে জমজমাট গঙ্গাসাগর মেলা। পুণ্যস্নানের শুভ তিথিতে সাগরদ্বীপে ঢল নেমেছে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত গঙ্গাসাগরে উপস্থিত হয়েছেন অন্তত ৮৫ লক্ষ মানুষ। প্রশাসনের দাবি, রাতের মধ্যেই এই সংখ্যা এক কোটির গণ্ডি ছুঁতে পারে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত পুণ্যস্নানের শুভ লগ্ন থাকায় ভিড় আরও বাড়বে বলেই অনুমান।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পানীয় জল, আবাসন ও চিকিৎসা পরিষেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, ভিন্রাজ্যের পুণ্যার্থীরাও ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মেলায় প্রায় ১৫০টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিরলসভাবে কাজ করছেন।
এদিকে মেলায় এক পুণ্যার্থীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। অসমের বাসিন্দা মিঠু মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ পাঁচ জন পুণ্যার্থীকে এয়ারলিফট করে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের আধিকারিক, মন্ত্রী ও স্বেচ্ছাসেবীরা রাস্তায় নেমে কাজ করছেন।
এ বারের গঙ্গাসাগর মেলায় বিশেষ আকর্ষণ তৃতীয় লিঙ্গের সাধুরা। প্রথমবার কিন্নর সাধুরা আলাদা আখড়া পেয়েছেন, যা ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। জুনা আখড়ায় মোট ১২ জন কিন্নর সাধুর উপস্থিতি মেলার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাশাপাশি নাগা সন্ন্যাসীদের দাবি—ভাতা, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের স্থায়ী বন্দোবস্ত। সব মিলিয়ে, কপিল মুনির মন্দিরে পুজো ও পুণ্যস্নান নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন কড়া নজরদারি রেখেছে।