নিজস্ব প্রতিনিধি:
বিধানসভা ভোটের আগেই প্রার্থী নির্বাচনে খানিকটা ‘ডিগবাজি’ দিলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্রথমে রেজিনগর ও বেলডাঙা—এই দুই কেন্দ্র থেকে লড়াইয়ের কথা ঘোষণা করলেও, শেষমেশ বেলডাঙা থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি। পরিবর্তে এবার রেজিনগরের পাশাপাশি নওদা আসন থেকে লড়বেন বলে জানিয়েছেন।
ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি শাসকদল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিজের রাজনৈতিক দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেন। শুরুতে একাধিক আসনে প্রার্থী দেওয়ার পাশাপাশি নিজেও একাধিক কেন্দ্র থেকে লড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই কৌশল পরিবর্তন করলেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এককভাবে ভোটে বড় প্রভাব ফেলা কঠিন বুঝেই বিরোধী শক্তিগুলিকে একত্রিত করার চেষ্টা করছেন হুমায়ুন। সিপিএম ও আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চালিয়েছিলেন তিনি। সেই কারণে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানো হয়—প্রথমে ১০ মার্চ, পরে ১৫ মার্চ পর্যন্ত।
তবে জোট গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এখনও। এর মধ্যেই বুধবার ফের প্রার্থী তালিকার আংশিক ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর। জানান, তিনি রেজিনগর ও নওদা—এই দুই কেন্দ্র থেকে লড়বেন। যদিও দলের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২২ মার্চ।
উল্লেখ্য, এর আগে প্রথম দফায় ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ ন’জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল। দ্বিতীয় দফায় মালদহ জেলার চারটি আসনে প্রার্থী দেয় দল। বুধবারও আরও কয়েকটি আসনে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে হুমায়ুন কবীরের এই অবস্থান বদল রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। জোট গঠন হবে কি না এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর কৌশল কতটা সফল হবে, সেটাই এখন দেখার।