পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর প্রতিবেশী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও এক কঠোর পদক্ষেপ নিল ভারত। এবার সব ধরণের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের দিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রক। এই নিষেধাজ্ঞা পাকিস্তান থেকে আসা সমস্ত পণ্য, এমনকি যে সব পণ্য বর্তমানে যাত্রাপথে রয়েছে, সেগুলির উপরও প্রযোজ্য হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে:
“পাকিস্তান থেকে উৎপন্ন বা রপ্তানিকৃত সমস্ত পণ্যের সরাসরি বা পরোক্ষ আমদানি বা পরিবহণ, তা অবাধ আমদানির যোগ্য হোক বা অন্যভাবে অনুমোদিত হোক, তা অবিলম্বে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। জাতীয় নিরাপত্তা ও জননীতির স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা থেকে কোনও ব্যতিক্রম করতে চাইলে সরকারের আগাম অনুমতি নিতে হবে।”
এর আগে পহেলগাঁও হামলার পর ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বাণিজ্য পথ, যা ছিল ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে একমাত্র সরাসরি বাণিজ্য করিডর।
পাকিস্তান থেকে ভারতের আমদানির মধ্যে ছিল মূলত ওষুধ, ফলমূল এবং তেলবীজ। তবে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই ভারত ২০০% আমদানি শুল্ক আরোপ করে, যার ফলে পাকিস্তান থেকে আমদানি প্রায় শূন্যের কোটায় পৌঁছায়। রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৪-২৫ সালে পাকিস্তান থেকে আমদানি মোট আমদানির ০.০০০১% এরও কম ছিল।
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের বৈসারণ উপত্যকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলায় এক নেপালি পর্যটক ও স্থানীয় ঘোড়াচালক সহ কমপক্ষে ২৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। তদন্তে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের নাম উঠে আসায় দুই দেশের সম্পর্কে ফের চরম অবনতি হয়।
এই ঘটনার জেরে ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে, যা ১৯৬০ সালে ভারত-পাকিস্তান স্বাক্ষরিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীজল বণ্টন চুক্তি। ভারত এখন ইন্দাস নদীর জল পাকিস্তানে প্রবাহিত হওয়া বন্ধ বা রূখে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা পাকিস্তানের কোটি কোটি মানুষের পানীয় জল ও কৃষি ব্যবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলবে।
এর পাশাপাশি পাকিস্তানের নাগরিকদের সমস্ত ভিসা বাতিল করেছে ভারত। ভারতে অবস্থানরত পাকিস্তানিদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, এমনকি চিকিৎসা ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
জবাবে পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা ভারতের সঙ্গে সব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাতিল করতে পারে, যার মধ্যে সিমলা চুক্তি-ও রয়েছে। ইতিমধ্যে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও অনেকটা নীচে নেমে গেছে।