শিলিগুড়ি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’র (FTA) হাত ধরে উত্তরবঙ্গের চা শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে দার্জিলিং ও অসমের চায়ের জন্য ইউরোপের এক বিশাল বাজার সরাসরি উন্মুক্ত হবে। চা বণিকসভাগুলোর দাবি, এই চুক্তির ফলে রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে ভারতীয় চায়ের গ্রহণযোগ্যতা এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়বে।
কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের (CII) ভাইস চেয়ারম্যান তথা দার্জিলিংয়ের চা শিল্পপতি সতীশ মিত্রুকা জানান, বর্তমানে বার্ষিক ৫.২৫ মিলিয়ন কেজি দার্জিলিং চা উৎপাদন হয়, যার সিংহভাগই রপ্তানি হয়। এতদিন জার্মানির মাধ্যমেই ফ্রান্স বা ইতালিতে ভারতীয় চা পৌঁছাত। কিন্তু এই চুক্তির ফলে এখন সরাসরি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চা পাঠানো সম্ভব হবে। এর ফলে পরিবহণ খরচ কমবে এবং বিদেশের বাজারে ভারতীয় চায়ের দাম অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হবে।
চা শিল্পের এই সুসময়ে আশার আলো দেখছেন ক্ষুদ্র চা চাষিরাও। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (CISTA) সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, “রপ্তানি বাড়লে গোটা শিল্পের পরিকাঠামো উন্নত হবে।” উল্লেখ্য, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ১০ লক্ষ শ্রমিক প্রত্যক্ষভাবে এবং ৬০ লক্ষ মানুষ পরোক্ষভাবে এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তবে গত কয়েক দশকে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও আমদানিকৃত নিম্নমানের চায়ের দাপটে উৎপাদন তলানিতে ঠেকেছে। ১৯৭০ সালে যেখানে ১৪ মিলিয়ন কেজি উৎপাদন হতো, তা এখন নেমে দাঁড়িয়েছে ৫.২৫ মিলিয়নে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির অধীনে প্রায় ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো বা বাতিল হতে পারে। ফলে ইউরোপীয় মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গুণগত মান বজায় রাখলে ভারতীয় চা বিশ্বজয়ী হবে। শুল্ক কমলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাহাড়ের চা বলয়ের দীর্ঘদিনের সংকট কাটাতে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এক অনন্য হাতিয়ার হতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন