সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বৃদ্ধি পাওয়া অত্যাচার ও সহিংসতার খবরের মধ্যে নীরব কেন ভারতীয় কেন্দ্র—এমন প্রশ্নের মধ্যে এবার দায়িত্বশীল ভাষ্য দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। ময়মনসিংহের দীপু দাস হত্যাকাণ্ড, ইনকিলাব মঞ্চ নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতা ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসা-সহিংসতার ঘটনা নিয়ে কেন্দ্র গোড়াপত্তনের পর্যায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল জানান, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে যে ভাবে হামলা ও অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে, তা গভীর উদ্বেগের। ভারত চাইছে—দোষীদের দ্রুত ও কঠোরভাবে বিচারের আওতায় আনা হোক।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “হিন্দু যুবক দীপুর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা আমরা করছি এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করব।”
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রায় ২,৯০০টি সহিংস ঘটনাই নথিভুক্ত হয়েছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগকর বলে বিবেচনা করছে ভারত। জায়সওয়াল আরও জানিয়েছেন, “এ ব্যাপারে আমরা আগেও পরিষ্কার বিবৃতি দিয়েছি। যারা বিকৃত ভাষ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে, সেই সব বক্তব্যকে আমরা খারিজ করেছি।”
এর আগের বিবৃতিতে কেন্দ্র জানিয়েছিল, বাংলাদেশে পরিস্থিতির দিকে ভারতের পক্ষ থেকে নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যেভাবে হামলা-হাঙ্গামা হচ্ছে, সে বিষয়ে ভারতীয় আধিকারিকেরা বাংলাদেশের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।
জায়সওয়ালের ভাষ্য—“আমরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, সংখ্যালঘুদের উপরে যে সহিংসতা হচ্ছে তা আর উপেক্ষা করা উচিত নয়। দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
এ অবস্থায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লির সর্তক ভাষ্য এসেছে, যা কূটনৈতিক মহলেও যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে ঢাকায় অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধি পাওয়া সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ; অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের উদ্বেগ-উদ্বোধন—এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।