ওয়াকফ আইন বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই মুর্শিদাবাদের জাফরাবাদে বাবা-ছেলের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল আদালত। গত এপ্রিল মাসে সংঘটিত এই মামলায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত। সোমবার রায় ঘোষণা করেন বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। দোষীদের সাজা ঘোষণা করা হবে মঙ্গলবার।
ঘটনাটি ঘটে গত ১২ এপ্রিল, মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার অন্তর্গত জাফরাবাদ এলাকায়। অভিযোগ, ওয়াকফ আইন কার্যকর হওয়ার প্রতিবাদে চলা বিক্ষোভের মাঝেই স্থানীয় দাস পরিবারের বাবা হরগোবিন্দ দাস ও ছেলে **চন্দন দাস**কে কুপিয়ে খুন করা হয়। যদিও অভিযোগপক্ষের দাবি, এই দুই জনের সঙ্গে ওয়াকফ আইন বিরোধী আন্দোলনের কোনও সম্পর্কই ছিল না। বিক্ষোভের মাঝে পড়ে যাওয়াতেই তাঁদের প্রাণ যায়।
ওয়াকফ আইন লাগু হওয়ার পর দেশজুড়ে তার বিরোধিতায় বিক্ষোভ শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গেও এর আঁচ লাগে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং সুন্দরবন এলাকায় অশান্তির ছবি সামনে আসে। সেই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই জাফরাবাদের এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করে তোলে।
ঘটনার পর জেলা পুলিশের তরফে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়। তদন্তে নেমে একে একে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে চার্জশিট জমা পড়লে শুরু হয় বিচারপর্ব। গত ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মামলার শুনানি চলে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে। সমস্ত পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর সোমবার আদালত রায় ঘোষণা করে।
রায়ে বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায় বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় মোট ১৩ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন। কোন ধারায় কী শাস্তি হবে, তা মঙ্গলবার জানানো হবে।
এই রায়ের পর এলাকায় ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দাস পরিবারের স্বজনদের দাবি, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।