মালদহের কালিয়াচকে অবরোধ-বিক্ষোভ এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় বড় সাফল্য পেল প্রশাসন। ‘মূলচক্রী’ হিসাবে চিহ্নিত মোফাক্কেরুল ইসলামকে শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, পালানোর চেষ্টা করার সময়ই তাঁকে আটক করা হয়।
সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বৃহস্পতিবারই মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এরপর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তাঁর খোঁজ চালাচ্ছিল। যদিও একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এমনকি মোবাইল বার্তারও কোনও উত্তর দেননি তিনি।
তবে গ্রেফতারের ঠিক আগে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মোফাক্কেরুল লেখেন, “ভাল থাকুন আপনারা।” এরপরই বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে শিলিগুড়ি পুলিশ। জানা গিয়েছে, তিনি বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।
উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৫ জনকে। পুলিশের দাবি, মোফাক্কেরুলই এই ঘটনার ‘মূল প্ররোচনাকারী’। কালিয়াচক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছিল। তাঁকে খুঁজে পেতে সিআইডির সাহায্যও নেওয়া হয়েছিল।
বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এডিজি জানান, “বিচারকদের উদ্ধার করতে কিছুটা দেরি হয়েছে ঠিকই, তবে পুলিশের কোনও গাফিলতি ছিল না। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।”
উল্লেখ্য, ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা মোফাক্কেরুল ইসলাম পেশায় আইনজীবী। তিনি রায়গঞ্জ জেলা আদালতে কাজ করার পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টে-ও মামলা লড়তেন।
রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (মিম)-এ যোগ দেন এবং ইটাহার কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন। যদিও সেই নির্বাচনে মাত্র ৮৩১টি ভোট পান তিনি। বর্তমানে তাঁকে মালদহে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।