ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কলকাতার বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার পর এ বার নিবাসী শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বদলের পথে হাঁটল কলকাতা পুরসভা। Kolkata Municipal Corporation সূত্রে খবর, এ বার থেকে নিবাসী শংসাপত্র পেতে আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট বরো অফিসে।
পুরসভার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার ১৬টি বরো অফিসে জমা পড়া আবেদনগুলি প্রথমে পাঠানো হবে পুরসভার মূল দফতরে যাচাইয়ের জন্য। সেখানে যাচাই সম্পন্ন হয়ে সবুজ সঙ্কেত মিললে, আবেদনকারীকে নিজের বরো অফিস থেকেই নিবাসী শংসাপত্র দেওয়া হবে। পুরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়বে এবং সাধারণ নাগরিকদের দৌড়ঝাঁপ কমবে।
তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে ভোটার তালিকায় ম্যাপিং সংক্রান্ত সমস্যায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা সহজেই নিবাসী শংসাপত্র সংগ্রহ করে নিজের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। বিশেষ করে বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ) ও বিএলএ-২-দের কাজ এই নতুন ব্যবস্থায় অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এসআইআর-এর প্রথম সংশোধিত খসড়া ভোটার তালিকায় কলকাতার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রেই সবচেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী—
- জোড়াসাঁকো: ৭২,৮৯৯
- চৌরঙ্গী: ৭৪,৫১০
- কলকাতা বন্দর: ৬৩,৭১৭
- বালিগঞ্জ: ৬৫,১৬৫
- শ্যামপুকুর: ৪২,৩০৪
- কাশীপুর–বেলগাছিয়া: ৫৩,৩৬৫
- বেলেঘাটা: ৫৬,৪৯৩
- এন্টালি: প্রায় ৪৯,০০০
- রাসবিহারী: ৪২,৫১৯
- মানিকতলা: ৪১,৮৭০
- ভবানীপুর: ৪৪,৭৮৭
সব মিলিয়ে প্রায় ছয় লক্ষের কাছাকাছি ভোটারের নাম কলকাতার এই ১১টি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে খসড়া তালিকায় নেই।
পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এসআইআর পর্বে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার জন্যও আলাদা করে ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২০টি কাউন্টার খুলে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র প্রদান করা হচ্ছে, যাতে ভোটাররা প্রয়োজনীয় নথি দ্রুত সংগ্রহ করতে পারেন।
পুরসভার এই নতুন উদ্যোগে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে বলেই আশাবাদী শাসকদল। তবে বাস্তবে কত দ্রুত শংসাপত্র মিলছে এবং তাতে কতটা উপকার পাচ্ছেন ভোটাররা, সেটাই এখন নজরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।