আরও একবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা। দুপুরের ব্যস্ত সময়ে প্রায় ৫ মাত্রার কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়ায় শহরে। যদিও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, তবু ঘনঘন কম্পনে প্রশ্ন উঠছে—কলকাতা কতটা নিরাপদ?
এই ভূমিকম্পের উৎস ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা-খুলনা অঞ্চল। তারই প্রভাব এসে পড়ে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে। বহুতল থেকে নেমে রাস্তায় আশ্রয় নেন বহু মানুষ।
সিসমিক জোনে কলকাতার অবস্থান
বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, কলকাতা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। সিসমিক জোনের মানচিত্রে শহরটি মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের সীমানায় রয়েছে। অর্থাৎ বড় মাত্রার ভূমিকম্প না হলেও, দূরের শক্তিশালী কম্পনের অভিঘাত এখানে অনুভূত হতে পারে।
হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় বড় ভূমিকম্প হলে তার রেশ কলকাতায় পৌঁছনো অস্বাভাবিক নয়। শহরের ভূ-প্রাকৃতিক গঠন ও নরম মাটির স্তর কম্পনের অভিঘাত কিছুটা শোষণ করলেও, তার সীমা রয়েছে।
প্লেটের নড়াচড়া ও নগর ঝুঁকি
ভারতীয় প্লেট প্রতি বছর কয়েক সেন্টিমিটার করে উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে। এই ধাক্কাধাক্কির ফলেই তৈরি হয় ভূমিকম্প। কলকাতা এই গতিশীল অঞ্চলের বাইরে নয়।
এছাড়া ভূগর্ভস্থ জলস্তর থেকে অতিরিক্ত জল তোলা, দ্রুত বহুতল নির্মাণ এবং নির্মাণবিধি না মানার ঝুঁকিও রয়েছে। নরম বালি-কাদা মাটি ছোট কম্পন শোষণ করলেও, বড় মাত্রার কম্পনে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ে।
বড় বিপদের আশঙ্কা কতটা?
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কলকাতায় বড় ক্ষতি নাও হতে পারে। কিন্তু রিখটার স্কেলে ৬-এর বেশি কম্পন হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
সতর্কতা, মজবুত নির্মাণ এবং সঠিক নগর পরিকল্পনাই একমাত্র সুরক্ষা। প্রশ্ন এখন একটাই—শহর কি যথেষ্ট প্রস্তুত?