আইএসএফ-এর সঙ্গে আসন সমঝোতাকে কেন্দ্র করে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে বামফ্রন্টের অন্দরের মতবিরোধ। একাধিক আসনে শরিক দলগুলির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব সামনে আসায় জোটের ঐক্যে ‘চিড়’ ধরেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে দেয় ফরওয়ার্ড ব্লক। ওই আসনে তাদের প্রার্থী করা হয়েছে নিতাই পালকে। তবে এই ঘোষণায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে, কারণ এর আগেই ওই কেন্দ্র থেকে আইএসএফ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে প্রাক্তন এসএফআই নেত্রী প্রিয়াঙ্কা বর্মণের নাম।
শুধু মধ্যমগ্রামই নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী আসনেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। মঙ্গলবার ওই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে বামফ্রন্টের শরিক আরএসপি। অথচ ওই আসনে আগেই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছিল আইএসএফ। ফলে জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে শুধু শরিক দলগুলির মধ্যেই নয়, চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে সিপিএম-কেও। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পশ্চিম কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী হিসেবে জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহির নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ওই আসনেও আইএসএফ প্রার্থী দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সিপিএম-কে প্রার্থী প্রত্যাহারের পথে হাঁটতে হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে খবর। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে ইতিমধ্যেই ওই কেন্দ্রে প্রচার শুরু হয়ে যাওয়ায় অস্বস্তি বাড়ছে সিপিএমের অন্দরেই।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু একটি বিবৃতি জারি করে জোটের আসন বণ্টনের রূপরেখা স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বামফ্রন্ট মোট ২৫২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এর মধ্যে সিপিএম ১৯৫টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ২৩টি, সিপিআই ১৬টি এবং আরএসপি ১৬টি আসনে লড়বে। পাশাপাশি আরসিপিআই এবং মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক একটি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
তিনি সহযোগী দলগুলির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মাঠের বাস্তব চিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে, মধ্যমগ্রামে প্রার্থী ঘোষণার সময় আইএসএফ-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ফরওয়ার্ড ব্লক। তাদের দাবি, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আগেই জানিয়েছিলেন যে ওই কেন্দ্রে আইএসএফ প্রার্থী দেবে না। কিন্তু সেই আশ্বাস উপেক্ষা করেই আইএসএফ প্রার্থী ঘোষণা করেছে বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাম-আইএসএফ জোটের সমীকরণ কতটা মজবুত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দ্রুত সমন্বয় না হলে এই দ্বন্দ্ব নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।