পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। সেই পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাতেও পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সঙ্কট মোকাবিলায় বুধবার বিকেলেই তেল সংস্থা এবং গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, তিনটি তেল সংস্থা এবং গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আলিপুরের সৌজন্য প্রেক্ষাগৃহে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, খাদ্যদপ্তরের সচিব-সহ একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে রাজ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় কোনও সমস্যা হয়নি। তবে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহ নিয়ে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং আগাম ব্যবস্থা নিতে তেল সংস্থা ও ডিলারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন তিনি।
বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “ওঁদের সঙ্গে আলোচনা করে যা বুঝলাম, জ্বালানি তেল নিয়ে এখনও ততটা সমস্যা হয়নি। মূল সমস্যা হচ্ছে এলপিজি গ্যাসে। আমরা বলেছি, রাজ্যে যে গ্যাস মজুত রয়েছে তা আপাতত বাইরে না পাঠাতে।”
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার আগের মতোই সরবরাহ চালু করা যাবে। এই বিষয়ে একটি এসওপি বা নির্দেশাবলী তৈরি করা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার দাবি, তেল সংস্থাগুলি আশ্বাস দিয়েছে যে স্বাস্থ্যক্ষেত্র, মিড ডে মিল এবং আইসিডিএস কেন্দ্রগুলিতে গ্যাস সরবরাহে কোনও ঘাটতি হবে না। জরুরি পরিষেবাগুলিতে গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে বৈঠকে গ্যাস বুকিং সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টিও ওঠে। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ ছিল, ফোনে বুকিং করতে গিয়ে সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে ডিলাররা জানিয়েছেন, সার্ভার সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই গ্রাহকেরা ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি। সমস্যার সমাধান হলে আগের মতোই বুকিং পরিষেবা চালু হবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর ও আশপাশে একাধিক এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট রয়েছে। সেখান থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে রাজ্যের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও সরবরাহ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে আপাতত সেই গ্যাস বাইরে না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তিনি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠক করবেন। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।