বিধানসভা নির্বাচনের শেষ পর্বের পর পশ্চিমবঙ্গে রান্নার গ্যাস নিয়ে নতুন সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডিস্ট্রিবিউটর সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হলেই গৃহস্থের এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। এতদিন যেখানে ডিস্ট্রিবিউটরদের চাহিদা অনুযায়ী ১০০ শতাংশ সরবরাহ করা হচ্ছিল, ভোটের পর তা কমিয়ে ৮০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এখন যেখানে গ্যাস বুকিংয়ের পর দ্রুত ডেলিভারি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে নতুন নিয়ম চালু হলে সিলিন্ডার পেতে ১২ থেকে ১৫ দিন বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। শহরাঞ্চলে ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিন পর বুকিংয়ের নিয়ম থাকলেও জোগান কমে গেলে সেই সময়ের ব্যবধান আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ডিলাররা।
ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই দেশের বহু জায়গায় ৮০ শতাংশ জোগান নীতিতে চলছে। তবে ভোটের কারণে পশ্চিমবঙ্গ-সহ কিছু রাজ্যে তা কার্যকর করা হয়নি। ভোট মিটতেই সেই নীতি চালু করা হতে পারে। এর ফলে কলকাতা ও শহরতলির মতো এলাকায়, যেখানে মাসে প্রায় ৫০ লক্ষ সিলিন্ডারের প্রয়োজন, সেখানে সরবরাহে বড়সড় চাপ তৈরি হতে পারে।
এর পাশাপাশি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ডিলাররা। তাঁদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে চলেছে। প্রতিটি গৃহস্থালির সিলিন্ডারে প্রায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে বলে দাবি। সেই চাপ সামাল দিতে আগামী দিনে গ্যাসের দাম বাড়ানো হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জোগান কমা ও সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি—দুইয়ের প্রভাবই পড়বে সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর। ফলে ভোটের পর বাংলার হেঁশেলে যে নতুন করে চাপ বাড়তে চলেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে গ্রাহক মহলে।