প্রশ্নের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট লোকপালের নির্দেশের একটি অংশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ফলে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
গত বছরের ১২ নভেম্বর প্রশ্ন-ঘুষ মামলায় মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআইকে চার্জশিট জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল লোকপাল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন মহুয়া। দিল্লি হাই কোর্ট প্রথমে স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করলেও পরে সিবিআই চার্জশিট পেশের বিষয়টি লোকপালের বিবেচনার উপর ছেড়ে দেয়।
গত ১৯ ডিসেম্বর হাই কোর্ট জানায়, আগের নির্দেশে ‘আইনগত ত্রুটি’ রয়েছে। তাই পুরনো নির্দেশ খারিজ করে নতুন করে চার্জশিট পেশের বিষয়ে বিবেচনার জন্য লোকপালকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। পরে লোকপালের আবেদনে সেই সময়সীমা আরও দু’মাস বাড়ানো হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিবিআই চার্জশিট জমা দিতে পারেনি। গত জানুয়ারিতে দিল্লি হাই কোর্ট আর সময় বাড়াতে অস্বীকার করে।
এর পরেই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় লোকপাল। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ লোকপাল আইনের ২০ নম্বর ধারায় দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশের একটি অংশে স্থগিতাদেশ দেয়। বিশেষ করে ‘লোকপালের বিবেচনাধীন’ অংশটিতে আদালত আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি লোকসভার সদস্য থাকাকালীন দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই প্রশ্নগুলিতে শিল্পপতি গৌতম আদানি-সহ বিভিন্ন বিষয়কে নিশানা করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অস্বস্তিতে ফেলতেই এই প্রশ্নগুলি তোলা হয়েছিল।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে লোকসভার স্পিকারের কাছে মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। পরে বিষয়টি লোকসভার এথিক্স কমিটির কাছে যায়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর মহুয়ার সাংসদপদ খারিজ করা হয়।
যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে জিতে ফের সাংসদ হন তিনি। পরে বিষয়টি লোকপালের কাছে গড়ায় এবং তদন্তে নামে সিবিআই। সিবিআইয়ের রিপোর্টে দাবি করা হয়, ঘুষের বিনিময়ে মহুয়া মোট ৬১টি প্রশ্ন করেছিলেন সংসদে। এর মধ্যে তিনটি প্রশ্ন অফলাইন পদ্ধতিতে করা হয়েছিল, বাকি প্রশ্নগুলি অনলাইনে আপলোড করা হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীন শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানি একটি হলফনামায় দাবি করেন, মহুয়ার সংসদের লগইন আইডি ব্যবহার করেই তিনি ওই প্রশ্নগুলি আপলোড করেছিলেন। এই অভিযোগ ঘিরেই বর্তমানে আদালতে আইনি লড়াই চলছে।