কলকাতা: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘মিথ্যার জঞ্জাল’ (Garbage of Lies) ও ‘হাম্পটি ডাম্পটি’ বলে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকেলে দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষার ছিটেফোঁটাও নেই। রাজনৈতিকভাবে বাংলায় বিজেপি হারবে জেনেই সুপরিকল্পিতভাবে পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনা করা হয়েছে।
বাজেটে বাংলার জন্য ঘোষিত পণ্য করিডর ও হাইস্পিড রেল নিয়েও কেন্দ্রকে পালটা তোপ দাগেন মমতা। ডানকুনি ফ্রেট করিডর নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণাকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তিনিই এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। বারাণসী ও শিলিগুড়ির মধ্যে প্রস্তাবিত হাইস্পিড রেল করিডর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিঁধে তাঁর মন্তব্য, “বারাণসীকে ডিজ়নিল্যান্ড বানানো হচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রেঞ্জ কেন্দ্র স্রেফ ‘কথার ফুলঝুরি’ ছড়াচ্ছে। শেয়ার বাজারে সেনসেক্সের ১০০০ পয়েন্ট পতনকে বাজেট সম্পর্কে বণিকমহলের হতাশার প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন তিনি।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বাজেটকে ‘বিমাতৃসুলভ’ ও ‘দিশাহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর সাফ কথা, ৮৫ মিনিটের বাজেট ভাষণে বাংলার প্রাপ্তি শূন্য। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই কেন্দ্র বাংলার ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রেখেছে বলে দাবি করেন তিনি। এই ইস্যুতে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, “২০২১-এর পর রাজ্যের একজন বাসিন্দাও যদি ১০০ দিনের কাজে কেন্দ্রের টাকা পেয়ে থাকেন, তবে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ উল্লেখ না থাকাকে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে তৃণমূল শিবির। মমতা ও অভিষেক দুজনেই এদিন সেই বঞ্চনার অস্ত্রেই শান দিলেন। কেন্দ্রের ‘বিমাতৃসুলভ’ আচরণের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষকে সংঘবদ্ধ করে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে সমুচিত জবাব দেওয়াই এখন ঘাসফুল শিবিরের প্রধান রণকৌশল।