পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় প্রথম দফায় বাদ পড়েছে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম। আর এই নাম বাদ দেওয়ার পিছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় তৃণমূলের সভা থেকে মমতার দাবি, নির্বাচন কমিশনের পুরো প্রক্রিয়াটি বিজেপির আইটি সেলের লোকজন চালাচ্ছে। রাজ্যের আধিকারিকদের না জানিয়ে এআই ব্যবহার করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে—এটাই এক ‘বড় কেলেঙ্কারি’ বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
মমতার মন্তব্য, “এআই দিয়ে এসআইআরে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির আইটি সেলের এক জন এটা করাচ্ছেন। রাজ্যের অফিসাররা কিছু জানেন না। এটা বড় কেলেঙ্কারি।” তৃণমূলের অন্দরে মত, ইঙ্গিতে কমিশনের ডি জি আইটি সীমা খন্নাকেই নিশানা করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
এসআইআর শুনানিতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের ডেকে হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এই আতঙ্কে জেলায় জেলায় মৃত্যু ঘটছে। এ পর্যন্ত ৫৮-৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন দাবি করে মমতার ঘোষণা, তাঁদের নামে প্রতিটি জেলায় শহিদবেদি তৈরি হবে, যেখানে লেখা থাকবে— “দায়ী নির্বাচন কমিশন এবং ভ্যানিশ কুমার।” (নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ করে কটাক্ষ।)
মঙ্গলবারের সভায় জ্ঞানেশ কুমারকেও সরাসরি আক্রমণ করেন তিনি। পরিবারের প্রশাসনিক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতার মন্তব্য, “নিজের পরিবার গোছানোর জন্য বিজেপির দালালি করছেন। যে দিন বিজেপি থাকবে না, তখন কী হবে?”
তৃণমূলনেত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, কেন শুনানির ভিতরে কোনও দলের বিএলএ-দের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর দাবি, “বিজেপির নিজেদের লোক নেই বলেই কারও বিএলএ-কে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমরা চাই সব দলের প্রতিনিধি থাকুক।” এরপর দলীয় কর্মীদের নির্দেশ—এখন থেকে উৎসব থামিয়ে এসআইআর ও ভোটের লড়াইয়েই মন দিতে হবে। ফের শ্লোগান শোনালেন, “এ বারও খেলা হবে। নাম হবে ফাটাফাটি খেলা।”
এ দিন সল্টলেকে অমিত শাহের সাংবাদিক বৈঠকের আধ ঘণ্টা পর বড়জোড়ায় সভা করেন মমতা। বিজেপির অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি কটাক্ষ করেন, “আরও আসুন, ভোটের আগে নাড়ু খাওয়াব। একদিকে নাড়ু, আর অন্যদিকে মা-বোনেদের হাতে থাকবে…”— বাকিটা না বললেও জনতার মধ্য থেকে আওয়াজ ওঠে—“ঝাড়ু”।
সমগ্র ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।