ভোটগণনার দিনই ভবানীপুরে উত্তেজনা তুঙ্গে। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজ্যে “১০০টিরও বেশি আসন লুট করা হয়েছে”। গণনাকেন্দ্র ছেড়ে তিনি সরাসরি কালীঘাটের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তবে বেরোনোর সময়ও তাঁকে ‘চোর-চোর’ স্লোগানের মুখে পড়তে হয়।
সোমবার দুপুর সাড়ে ৩টা নাগাদ তিনি যখন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল-এ পৌঁছন, তখন থেকেই পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। আগে থেকেই সেখানে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত ছিল। তাঁর গাড়ি পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় স্লোগানবাজি। ‘চোর-চোর’ থেকে ‘গো ব্যাক’—একাধিক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
এর আগেই গণনাকেন্দ্রের কাছে একটি পেট্রল পাম্পে তৃণমূল কর্মীদের জমায়েত ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেখানে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। পরে পুলিশ ওই এলাকা খালি করতে বললে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়, এমনকি চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। গণনাকেন্দ্রের আশপাশে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত সংখ্যায়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে এবং বিক্ষোভকারীদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। উল্লেখ্য, ভবানীপুর কেন্দ্রে মোট ২০ রাউন্ড গণনা হওয়ার কথা। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১২টি রাউন্ডের ফল ঘোষণা হয়েছে। শুরু থেকেই এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যাচ্ছে। কখনও এগিয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আবার কখনও ব্যবধান কমাচ্ছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে শেষ ফলাফল ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।