বঙ্গে ভোটের দামামা বাজতেই প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষপদে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন রদবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশের আগে কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার অভিযোগ, বাংলায় কার্যত “ঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন” চলছে। তাঁর কথায়, “লজ্জা! এর মধ্যেই ভোট করানো হচ্ছে। এত ভয় কীসের? বাংলা রাজ্যটা থাক, সেটাই চায় না বিজেপি।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভোটের পর আসন পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, “দুই ভাই মিলে এসব করছে।”
এদিন তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তেহারের নাম ঘোষণা করা হয় ‘প্রতিজ্ঞা’। দলীয় সূত্রে খবর, এই ইস্তেহারে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে একাধিক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে ইতিমধ্যেই এক কোটি যুবক-যুবতী ভাতা পাচ্ছেন। মেধাশ্রী, যুবশ্রী-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, “যত দিন চাকরি না পাচ্ছেন, তত দিন এই ভাতা দেওয়া হবে।” পাশাপাশি তিনি জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ২ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়েও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও জনজাতির মহিলারা বছরে ২০,৪০০ টাকা পাচ্ছেন। “আমরা যা বলি, তাই করে দেখাই”— দাবি মমতার।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ১ কোটি ২০ লক্ষ কাঁচা বাড়ি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পানীয় জলের সংযোগ ২ লক্ষ বাড়ি থেকে বেড়ে এক কোটি বাড়িতে পৌঁছেছে। আগামী দু’-এক বছরের মধ্যে সব বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রাও ঘোষণা করেন তিনি।
এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র “এজেন্সি দিয়ে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে” এবং “কৃষক-বিরোধী নীতি” নিচ্ছে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের উপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও তোলেন তিনি। সবশেষে তিনি বলেন, “গুণ্ডামি ও দাঙ্গার বিরুদ্ধে মানুষই জিতবে।” সব ধর্মের মানুষের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি দাবি করেন, খুব শীঘ্রই “অত্যাচারী সরকার” বিদায় নেবে।