কলকাতা: আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা প্রাঙ্গণ আগেই স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে। এবার সেই প্রাঙ্গণেই স্থায়ী ‘বইতীর্থ’ গড়ে তোলার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে গিল্ড কর্তাদের হাতে ১০ কোটি টাকা অনুদান তুলে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। শুধু তাই নয়, কেমন হবে সেই ‘বইতীর্থ’, তার একটি খসড়া নকশাও নিজের হাতে এঁকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেমন হবে ‘বইতীর্থ’? জগন্নাথধাম বা মহাকালধামের ধাঁচে বইমেলা প্রাঙ্গণকে সাজিয়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি বলেন, “বইমেলা প্রাঙ্গণ স্থায়ী হয়ে গিয়েছে। ওরা বইতীর্থ করতে চাইছে। আমি বললাম, করে দাও। আমি একটা আইডিয়া বা রাফ স্কেচ করছিলাম। পুরো বই দিয়ে তৈরি হবে এটি। আপনাদের কাছে ১০ কোটি টাকা চলে যাবে। আমার ইচ্ছা, ৫০ বছরের উদ্বোধনে এসে যেন দেখতে পাই বইমেলার সঙ্গে বইতীর্থও তৈরি হয়ে গিয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর নতুন বই ও সাহিত্যচর্চা প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেও যে তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করেন, তা ফের মনে করিয়ে দেন মমতা। এদিন তিনি জানান, এতদিন তাঁর ১৫৩টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এবারের বইমেলায় আরও ৯টি বই প্রকাশিত হতে চলেছে। ফলে মোট বইয়ের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬২-তে।
নতুন বইয়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আমার রাজনৈতিক জীবনের কিছু কথা লিখেছি, তবে সবটা এখনও বলিনি। সবটা বলে দিলে আগামীদিনের জন্য হৃদয়ের সঞ্চিত ভাণ্ডারে কী থাকবে? এছাড়া এসআইআর (SIR) ইস্যুতে যে হেনস্তা চলছে, তা নিয়েও লেখা থাকবে।” ২০২৬ সালকে মাথায় রেখে হেলিকপ্টারে যাতায়াতের পথে তিনি ২৬টি কবিতা লিখেছেন বলেও জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় খুশি পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড এবং সাধারণ বইপ্রেমীরা। আগামী দিনে সেন্ট্রাল পার্কে ‘বইতীর্থ’ তৈরি হলে তা কলকাতার পর্যটন মানচিত্রেও নতুন সংযোজন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।