কলকাতা: রাজ্যের কৃষকদের জন্য বড় সুখবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার আবহাওয়া ও জলবায়ুর সঙ্গে মানানসই চারটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির উচ্চফলনশীল ধান উদ্ভাবন করেছে রাজ্য কৃষি দপ্তর। পুরুলিয়ার খরা প্রতিরোধ গবেষণা কেন্দ্র এবং চুঁচুড়ার ধান গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ কয়েক বছরের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
খরা ও বন্যা মোকাবিলায় নতুন ধান রাজ্যের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখে এই ধানগুলিকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. খরাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য: রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল অর্থাৎ পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার মতো জেলাগুলিতে যেখানে জলের টান থাকে, সেখানকার জন্য তিনটি প্রজাতি আনা হয়েছে— ‘সুভাষিণী’, ‘লছমন্তি’ এবং ‘মুসাফির’। কৃষি দপ্তরের দাবি, খরিফ মরসুমে এই ধানগুলি হেক্টর প্রতি ৫২ থেকে ৫৫ কুইন্টাল পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।
২. বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য: দক্ষিণবঙ্গের নিচু এলাকা বা যেখানে জল জমে, সেখানকার জন্য উদ্ভাবন করা হয়েছে ‘ইরাবতী’ নামক প্রজাতি। এই ধানের বিশেষত্ব হলো, দীর্ঘক্ষণ জলমগ্ন অবস্থাতেও এটি পচে যায় না এবং প্রবল ঝড়েও হেলে পড়ে না।
কৃষিতে রাজ্যের সাফল্য এদিন মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত বিজ্ঞানী ও গবেষকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষকদের সুবিধার্থে ২০১১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার গবেষণার মাধ্যমে মোট ২৫টি নতুন ফসলের প্রজাতি তৈরি করেছে। যার মধ্যে ১৫টিই ধানের ভ্যারাইটি। রাজ্যের এই উদ্যোগ আগামী দিনে কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং ফসলের ক্ষতি রুখতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।