ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে ফের সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে তিনি এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ—পরিকল্পনাহীন, বিশৃঙ্খল ও বিপজ্জনকভাবে চলছে এই প্রক্রিয়া, যার জেরে ইতিমধ্যেই দুই বিএলও-র মৃত্যু ও কয়েকজনের অসুস্থতার খবর মিলেছে।
ডুয়ার্সের নিউ গ্লেনকো চা বাগানের বাসিন্দা শান্তিমুনি ওঁরাও—একজন বিএলও—আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এসআইআর-এর চাপকেই দায়ী করেছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উপর যে অতিরিক্ত চাপ ও অবাস্তব সময়সীমা চাপানো হয়েছে, তা তাঁদের জীবনের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে, প্রয়োজনীয় নথি নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কাঠামোগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। তাঁর দাবি, বিএলওদের উপর অযথা ও অত্যধিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও মানসিক চাপে পড়ছেন, যাঁদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন—এই সময় রাজ্যে ধান কাটার মরসুম চলছে। কৃষিকাজ ও গ্রামীণ জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে এসআইআর চালানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের জীবনও ব্যাহত করছে।
এর আগে মমতা দাবি করেছিলেন—“নোটবন্দির পর মানুষকে এবার এসআইআর বন্দি করা হচ্ছে। এটি একপ্রকার সুপার ইমার্জেন্সি।”
তৃণমূলের অভিযোগ, শাসক দলের সরকারকে প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত রাখতে কেন্দ্র ও কমিশন মিলেই এসআইআর চাপিয়ে দিচ্ছে। মমতা বারবার বলেছেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষণা হবে। দু’মাসে এই বিশাল কাজ শেষ করা অসম্ভব।”