ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা ও বাংলার মনীষীদের অপমানের অভিযোগে যখন রাজ্য রাজনীতি তপ্ত, সেই আবহেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা রক্ষার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এক্স (X) হ্যান্ডেলে শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি লেখেন, “রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-সুকান্ত-জীবনানন্দের বাংলা শুধু নয়, আমরা সব ভাষাকেই সম্মান করি।” তাঁর দাবি, তাঁর আমলে হিন্দি, সাঁওতালি, কুরুখ, কুড়মালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরী, পাঞ্জাবি ও তেলুগুকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাদরি ভাষার মানোন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “হিন্দি অকাদেমি, রাজবংশী ভাষা অকাদেমি, কামতাপুরী ভাষা অকাদেমি, সাঁওতালি অকাদেমি—সব করা হয়েছে।” তিনি জানান, রাজ্যের প্রত্যেক ভাষাভাষী মানুষের মাতৃভাষায় পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
সবশেষে তাঁর অঙ্গীকার, “একুশের এই পুণ্যদিনে আরও একবার অঙ্গীকার করছি—যেকোনও ভাষার উপর যদি আক্রমণ আসে, আমরা সবাই মিলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। সকল ভাষা সমানভাবে সম্মাননীয়।”
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। অবিভক্ত পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে বাংলা চালুর দাবিতে আন্দোলনের সময় ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বাররা। তাঁদের আত্মবলিদানের ফলেই বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় এবং ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত হয়।
আজও বিশ্বের নানা প্রান্তে বাঙালিরা দিনটি শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করেন। এপার বাংলার পাশাপাশি বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মাতৃভাষা দিবস।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভাষা রক্ষার প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।