আমলা ও পুলিশকর্তাদের একের পর এক বদলিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ তুলেছেন, পশ্চিমবঙ্গকে কোণঠাসা করতে পরিকল্পিতভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে বলেও দাবি তাঁর।
মমতার বক্তব্য, রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা কার্যত ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ এবং ‘রাষ্ট্রপতি শাসনের এক অঘোষিত রূপ’। তাঁর অভিযোগ, জোর করে, ভয় দেখিয়ে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে রাজ্য দখলের চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর আগেও এই ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক মিছিলেও কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। তাঁর দাবি, প্রশাসনের শীর্ষস্তরে ধারাবাহিক বদলি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।
মমতা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই ৫০ জনেরও বেশি সিনিয়র আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইবি, এসটিএফ এবং সিআইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার আধিকারিকদেরও বদলি করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। এতে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, এই অভিযোগের পর পাল্টা আক্রমণে নেমেছে বিজেপি। দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিংহ প্রশ্ন তুলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই কিছুদিন আগে ৮৫ জন পুলিশ আধিকারিককে বদলি করেছিলেন—তখন কি তা সঠিক ছিল না? ভোটের আগে এই বদলির রাজনীতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সমাজমাধ্যমেও সরব হয়েছেন মমতা। তিনি লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গ কখনও ভয়ের কাছে মাথা নত করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। বিভেদের রাজনীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করবে রাজ্যবাসী। পাশাপাশি, নাগরিকদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য লাইনে দাঁড় করানোর প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রের নীতিকেও আক্রমণ করেছেন তিনি।
কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও ফের তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করে নিশানা করা হচ্ছে, যা নজিরবিহীন এবং উদ্বেগজনক।
প্রসঙ্গত, ভোট ঘোষণা হতেই রাজ্যে একের পর এক শীর্ষ আমলা ও পুলিশকর্তাকে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলির নির্দেশ জারি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজ্যে।