নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল। সোমবার বিকেলে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর ‘নির্বাচন সদন’-এ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, “আমি অনেক দিন দিল্লিতে রাজনীতি করেছি, মন্ত্রীও ছিলাম। কিন্তু এত অহঙ্কারী নির্বাচন কমিশন আমি আগে দেখিনি।”
এদিন প্রতিবাদ স্বরূপ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের প্রত্যেকের পরনেই ছিল কালো পোশাক। কমিশনকে ‘বিজেপির ইশারায় চালিত’ এবং ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ শানান তৃণমূল নেত্রী। মমতা প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার পশ্চিমবঙ্গকেই নিশানা করা হচ্ছে? তিনি অভিযোগ করেন, সীমা খন্না নামের এক ব্যক্তি, যিনি নির্বাচন কমিশনের কেউ নন বরং বিজেপির আইটি সেলের লোক, তাঁর নির্দেশে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, অথচ কমিশন কোনো পদক্ষেপ করেনি।
এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক অভিনব প্রতিবাদ জানান। কমিশনের খাতায় ‘মৃত’ হিসেবে নথিভুক্ত অথচ বাস্তবে জীবিত— এমন ৫০ জন ভোটারকে তিনি দিল্লিতে নিয়ে এসেছিলেন। এছাড়াও এসআইআর-এর কারণে প্রাণ হারিয়েছেন এমন পরিবারের সদস্যদেরও কমিশনের সামনে হাজির করেন তিনি। মমতা অভিযোগ করেন, বৈঠকে তাঁদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। মৃতদের পরিবারের মধ্যে কতজন হিন্দু আর কতজন মুসলিম, তা দেখিয়ে বিজেপি-র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, নির্বাচন কমিশনের এই আচরণ ও পক্ষপাতিত্ব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “কারও জন্য কুর্সি চিরন্তন নয়।” সোমবারের এই বৈঠক বয়কটের পর দিল্লির রাজনৈতিক আবহ যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।