ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার রীতি থাকলেও, সেই পথেই হাঁটছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা হারিনি। ভোট লুট হয়েছে। তাই ইস্তফার প্রশ্নই নেই।” তাঁর এই অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
সোমবার রাতেই যখন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল থেকে বেরিয়ে তিনি কালীঘাটের বাড়ির দিকে রওনা দেন, তখন থেকেই ইঙ্গিত মিলেছিল ভিন্ন সিদ্ধান্তের। অনেকেই মনে করেছিলেন, তিনি রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে পদত্যাগ করবেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা ভেঙে দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে বাধ্যতামূলক কোনও ধারা নেই, এটি মূলত একটি প্রচলিত প্রথা। অতীতে ২০১১ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল ঘোষণার পরই ইস্তফা দিয়েছিলেন। তবে ভোটে হেরে গিয়ে পদত্যাগ না করার ঘটনা প্রায় নজিরবিহীন। ফলে এই পরিস্থিতি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। ততদিন পর্যন্ত মমতা মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তাঁর মেয়াদ শেষ হবে। নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্যপাল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। প্রয়োজনে ‘কেয়ারটেকার’ ব্যবস্থাও চালু হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এদিকে, বিজেপি সরকার গঠনের প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ৯ মে শপথগ্রহণ হতে পারে। তার আগে কলকাতায় এসে পরিষদীয় দলের বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করতে পারেন অমিত শাহ। সব মিলিয়ে, একদিকে ইস্তফা বিতর্ক, অন্যদিকে সরকার গঠন—দুই মিলিয়ে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি।