নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্য রাজনীতির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই তাঁদের পরিচিতি। কিন্তু আমজনতার গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা মানিক সরকারের কণ্ঠে। এসআইআর (Special Intensive Revision) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে শীর্ষ আদালতে মমতার সওয়ালকে ‘কার্যকরী উদ্যোগ’ বলে সাধুবাদ জানালেন তিনি।
রবিবার ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মানিক সরকার সরাসরি আক্রমণ শানান নির্বাচন কমিশনকে। তাঁর অভিযোগ, কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে বিজেপিকে সাহায্য করছে। বিহার থেকে শুরু হওয়া এই চক্রান্তের লক্ষ্য মূলত মুসলিম, তফসিলভুক্ত এবং গরিব শ্রেণির ভোটাররা, যাঁরা বর্তমান শাসকের ওপর ক্ষুব্ধ। মানিকবাবুর কথায়, “এসআইআর-কে সামনে রেখে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদের চক্রান্ত চলছে। এর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
এই প্রেক্ষিতেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথা উঠে আসে তাঁর মুখে। সুপ্রিম কোর্টে আমজনতার হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সওয়ালকে সমর্থন জানিয়ে মানিক সরকার বলেন, “শ্রীমতি ব্যানার্জি দেরি করে হলেও কার্যকরী উদ্যোগ নিয়েছেন। ভালো করেছেন, তাঁকে আমি খাটো করে দেখতে পারছি না।” উল্লেখ্য, বঙ্গ সিপিএম যখন মমতার এই আইনি লড়াইকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করছে, তখন মানিক সরকারের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
মুখ্যমন্ত্রী তথা পেশায় আইনজীবী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শীর্ষ আদালতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাতে একজন প্রকৃত ভোটারের নামও বাদ না পড়ে, তার জন্য তিনি শেষ পর্যন্ত লড়তে প্রস্তুত। এই আইনি লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হতে পারে আগামিকাল (সোমবার) সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে। তার আগে বাম শিবিরের এই প্রবীণ নেতার সমর্থন মমতার লড়াইকে বাড়তি অক্সিজেন দিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।