শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘিরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। রবিবারই এ বিষয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর। সোমবার তিনি জানান, এই ইস্যুতে রাস্তায় নামছে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ।
মমতা বালা ঠাকুরের দাবি, “ভোটার পরিচয়পত্রে লেখা থাকে না কে তৃণমূল, কে বিজেপি। অথচ মতুয়া সম্প্রদায়ের ৯০ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ চলে গিয়েছে। তাই আন্দোলনে নামছে মহাসংঘ।”
বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তাঁর অভিযোগ, “এখন বিজেপি বলছে তৃণমূলের বুথস্তরের আধিকারিকেরা এই নাম দিয়েছেন। আসলে বিজেপি সমস্যায় পড়েছে, তাই মিথ্যা অভিযোগ করছে।”
তৃণমূল সাংসদ আরও বলেন, “এতদিন বিজেপি বলে এসেছে মতুয়াদের কোনও সমস্যা হবে না। এখন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মতুয়াদের ভোট কেটে দেওয়া হচ্ছে বলে ফোন আসছে। শান্তনু ঠাকুর আগে বলেছিলেন মতুয়াদের পাশে থাকবেন। এখন বলছেন নির্বাচন কমিশন বলবে। কখন কী বলেন, তার ঠিক নেই।”
অন্যদিকে, বাগদার বিধায়ক তথা মতুয়া বাড়ির সদস্যা মধুপর্ণা ঠাকুর জানান, “বাগদায় ১৪ হাজারেরও বেশি ভোট কাটা হয়েছে। ১৩ হাজারের বেশি ভোট বিচার্য রাখা হয়েছে। এই এলাকার অধিকাংশই মতুয়া সমাজের মানুষ। তাঁদের ভোট যদি অবৈধ হয়, তা হলে প্রধানমন্ত্রীও অবৈধ। আমরা মতুয়াদের পাশে আছি।”
জেলা ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, মতুয়া অধ্যুষিত রানাঘাট দক্ষিণে ৭,১২৫ জনের নাম বাদ পড়েছে। রানাঘাট উত্তর পূর্বে বাদ পড়েছে ৬,৪০০ জনের নাম। রানাঘাট উত্তর পশ্চিমে প্রায় ৬,৭০০ জনের নাম কাটা গিয়েছে।
কৃষ্ণগঞ্জে ২,৫৩৫ জন এবং চাকদহে ৫,৮৬০ জনের নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি সীমান্ত ও মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবেই পরিচিত।