নয়াদিল্লি: ভোটের মুখে পাঁচ বছর বিনামূল্যে রেশনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এবার বিপুল খরচ সামাল দিতে কৌশলী পথে হাঁটছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। চাল বা গমের পরিবর্তে সরাসরি গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর (DBT) প্রক্রিয়াটি এবার দেশজুড়ে শুরু করার তোড়জোড় শুরু করেছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে খাদ্যমন্ত্রককে স্পষ্ট জানানো হয়েছে— ‘রেশন খাতে খরচ বাঁচান’। ইতিমধ্যেই চণ্ডীগড়, পুদুচেরি ও লাক্ষ্মাদ্বীপে এই প্রক্রিয়া শুরু করে প্রায় ১১৩ কোটি টাকা সরাসরি গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী এক বছরের মধ্যে ডিজিটাল কারেন্সি বা ‘ই-রুপি’ (e-Rupi) ব্যবস্থা চালু করা। স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার তৈরি এই ডিজিটাল ভাউচারটি গ্রাহকের মোবাইলে পৌঁছে যাবে। এর মাধ্যমে দিল্লি থেকেই নজরদারি চালানো যাবে, কে কোথা থেকে রেশন নিচ্ছেন। তবে এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন’-এর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। তাঁর অভিযোগ, এই ব্যবস্থা রেশন ডিলারদের রুটি-রুজি কেড়ে নেবে। ডিজিটাল লেনদেনের জটিলতায় সাধারণ মানুষ পরিষেবা পাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সূত্রের খবর, রেশনে ভর্তুকির ১১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকার বোঝা কমাতে গ্রাহক সংখ্যা ছাঁটাই করার পরিকল্পনাও করছে কেন্দ্র। আয়কর, জিএসটি পোর্টাল এবং আধার ডেটাবেস ব্যবহার করে অযোগ্য গ্রাহকদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই ‘কেঁচো খুঁড়তে’ গিয়ে রীতিমতো ‘কেউটে’ বেরিয়ে পড়েছে। খাদ্যমন্ত্রকের তথ্য বলছে, ভুয়ো বা ডুপ্লিকেট রেশন কার্ডের রমরমা সবচেয়ে বেশি বিজেপি শাসিত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলিতে।
সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে এখনও পর্যন্ত ৭৬ হাজার ৩৬৩টি ডুপ্লিকেট রেশন কার্ড উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ (৩০,২৪৮)। তালিকায় রয়েছে হরিয়ানা (১৬,০৪৬), রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি। এমনকি গুজরাটেও ডুপ্লিকেট কার্ডের হদিশ মিলেছে। ফলে ভুয়ো রেশন কার্ড রোধে কেন্দ্রের নজরদারির দাবি বুমেরাং হয়ে খোদ শাসক দলের রাজ্যগুলোর দিকেই আঙুল তুলছে।